এনপিও’র সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রোডাকটিভিটি আরো বাড়াতে হবে

0
356

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রোডাকটিভিটি আরো বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ এখন বিশ^বাণিজ্যে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরামে হিসেবে ব্যবসা ক্ষেত্রে বৈশি^ক প্রতিযোগিতা সূচকে ১৩৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সাত ধাপ এগিয়ে ১০৬তম অবস্থান থেকে ৯৯তম অবস্থানে উঠে  এসেছে। বাংলাদেশ সফলতার সাথে এসডিজি অর্জন করেছে। এমডিজিও যথা সময়ে সফল ভাবে অর্জন করতে সরকার পরিকল্পিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষজনশক্তি তৈরী করতে টেকনিকেল ট্রেনিং সেন্টার ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি একসময় কৃষি নির্ভর ছিল। ১৯৭২-৭৩ সালে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল প্রায় ৭৮ ভাগ, এখন তা হয়েছে ১৫ ভাগ। শিল্পখাতে অবদান ছিল খুবই সামান্য আজ শিল্পখাতের অবদান ৩২ ভাগ। একসময় আমাদের জাতীয় বাজেট বৈদেশীক সাহোয্যের উপর নির্ভর ছিল ৯০ ভাগ। আজ নিজের অর্থেই বাজেট ঘোষণা করা হয়। মন্ত্রী বলেন, প্রোডাকটিভিটিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা ৭০ ভাগ, এটা ৯০ ভাগ হওয়া প্রয়োজন। প্রোডাকটিভিটিতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরো কাজ করতে হবে। বাণিজ্য সহজী করনের জন্য সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিযোগিতা মূলক বিশ^বাণিজ্যে পেপারলেস ট্রেডের সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন(এনপিও কে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে হবে।   বাণিজ্যমন্ত্রী আজ(২ অক্টোবর) ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) আয়োজিত জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে “টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতার সময় এসব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার ও রপ্তানিকারকদের বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো গড়ে উঠছে কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  ইউনাইটেড স্টেটস গ্রীণ বিল্ডিং কাউন্সিল প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানের পর সর্বোচ্চ পয়েন্টের ভিত্তিতে বিশে^র ১০টি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরিকে  এনার্জি এন্ড ইনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। এবার ইউএস গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরিকে এলইইডি সার্টিফিকেট দিয়েছে তারমধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ৭টি। অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে পরিনত হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। বাংলাদেশ এখন চলমান রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। বিশে^র অনেক উন্নত দেশ বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েই চলছে। গত অর্থ বছর পণ্য ও সেবা রপ্তানি হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে রপ্তানির পরিমান হবে ৬০ বিলিয়নর মার্কিন ডলার। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মায়ানমার থেকে জীবন বাচাতে পালিয়ে এসে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গ বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। একান্তই মানবিক কারনে সাময়িক ভাতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ^বাসীর প্রশংসা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলা হচ্ছে- মাদার অফ হিউমেনিটি। শুধু বিএনপি সমালোচনা করছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বিদেশে অবস্থান করছেন, দুখী রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াননি। সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের(বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এবং সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন-এর পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here