জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দিন মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন!

0
375

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে সশস্ত্র পাহারায় এক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার তিন জায়গায় মেঘনার বালু লুট করার খবরটি আমাদের উদ্বিগ্ন করার পাশাপাশি আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। কালাপাহাড়িয়ার বিবিরকান্দি ও দয়াকান্দাসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফাইজুল হক এবং ইউনিয়ন তরুণ লীগের নেতা জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। কদমীরচর গ্রামের নয়ারচর এলাকায় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাত্তার সরকারের নেতৃত্বে পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। তিন জায়গা থেকে প্রতিদিন ২৫-৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। এরপর এসব বালু বিক্রি করা হচ্ছে। বালু তোলার কারণে পার্শ্ববর্তী কদমীরচর, বিবিরকান্দি, দয়াকান্দা, মধ্যারচর, পূর্বকান্দি, বদলপুর, নয়াগাঁও, খাগকান্দা এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা করছে মানুষ। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, এসব বালু তোলা হচ্ছে সশস্ত্র পাহারায়। পাহারাদারদের হাতে থাকছে বন্দুক ও পিস্তল। তার মানে কি তাদের এই বালু উত্তোলনে কেউ কোনো বাধা দিতে এলে তার ওপর এসব অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে? এভাবে সশস্ত্র পাহারায় অবাধে বালু তোলা হচ্ছে, অথচ স্থানীয় প্রশাসন কেন কিছুই করছে না? এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই বা কী করছে? তারা কেন হাত গুটিয়ে বসে আছে? বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেই কি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এ ব্যাপারে আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদের বক্তব্য হচ্ছে, তাঁরা কয়েকবার অভিযান চালিয়েছেন, কিন্তু অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হওয়ায় কাউকেই পাওয়া যায়নি।এ ধরনের দায়সারা বক্তব্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। অবৈধভাবে কেউ যাতে বালু তুলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলে ছাড় পেয়ে যাবেন, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Advertisement

 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here