ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে এক লাখ ৭৫ হাজার শ্রমিক

0
1192

টেকসই ফায়ার এক্সিট ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে অ্যালায়েন্স জোটভুক্ত ৫২ শতাংশ কারখানায়, ৬২ শতাংশ কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করে নাযাযাদি রিপোর্ট দেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার উন্নয়নে অ্যালায়েন্সের কাজ সন্তোষজনক নয় বলে এক গবেষণা জরিপে দাবি করা হয়েছে। অ্যালায়েন্সভুক্ত কারাখানাগুলোতে এক লাখ ৭৫ হাজার শ্রমিক আগুনে পোড়ার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার উন্নয়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ড এদের মধ্যে অ্যালায়েন্সকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এক জরিপে। জরিপটিতে বলা হয়েছে অ্যালায়েন্সভুক্ত ওয়ালমার্ট আর গ্যাপ-এর জন্য পোশাক তৈরিকারী কারাখানাগুলোতে অন্তত এক লাখ ৭৫ হাজার শ্রমিক প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সিট ব্যবস্থা ছাড়াই কারখানায় কাজ করছেন। তবে জরিপে অ্যাকর্ডের ব্যাপারে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রবণতার কথা বলা হয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরাম, দ্য ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম, দ্য ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন এবং ম্যাকিলা সলিডারিটি নেটওয়ার্ক সমন্বিতভাবে বাংলাদেশের কারখানার পরিবেশ নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জরিপ প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘ডেঞ্জারাস ডিলেইস অন ওয়ার্কার সেফটি।’
রানা প্লাজা ভবন ধসের পর পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এইচ অ্যান্ড এম-এর নেতৃত্বে এবং আডিডাস, বেনেটন, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, টেসকোসহ অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় অ্যাকর্ড অন ‘ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ’, সংক্ষেপে অ্যাকর্ড নামে জোট গঠিত হয়। তবে ওই জোটে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গ্যাপ, টার্গেট এবং ওয়ালমার্টের মতো আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি’, সংক্ষেপে অ্যালায়েন্স নামে আরেকটি জোট গড়ে তোলে।
দ্য গার্ডিয়ান ওই প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, কারখানা সংস্কারে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না অ্যালায়েন্সভুক্ত ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো_ এ কারণে কারখানা মালিকদের প্রয়োজনীয় সংস্কারের তাগিদও দিতে পারছেন না তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে শ্রমিকদের সুরক্ষার প্রশ্নটি উপেক্ষা করে কাজের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। দুই জোটে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে কাজ করে এমন ১৭৫টি কোম্পানির ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যালায়েন্স যে দেয়া সময়সীমার মধ্যে কর্মপরিবেশে তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়ালমার্টের ৬২টি কারখানায় এক লাখ ২০ হাজার শ্রমিক প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সিট ছাড়াই কাজ করছে। একইভাবে গ্যাপের জন্য পোশাক তৈরিকারী ৫৫ হাজার শ্রমিক প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সিট ছাড়াই কাজ করেন।
টেকসই ফায়ার এক্সিট ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে অ্যালায়েন্স জোটভুক্ত ৫২ শতাংশ কারখানায় ৬২ শতাংশ কারখানা ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করে না এবং ৪৭ শতাংশের বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে সংস্কার আনার ক্ষেত্রে। কারখানাগুলোর সময়সীমা পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে কর্মপরিবেশের উন্নয়নের জন্য যাদের হাতে ২০১৪ সাল কিংবা ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময় ছিল, তাদের সময়সীমা ২০১৮ করে দেয়া হয়েছে।
জরিপে বলা হয়, অ্যালায়েন্স বলছে তাদের আওতাধীন কারখানাগুলোর ১০৭টিই সঠিক পথে (অন ট্র্যাক) আছে এবং ৯৯টি কারখানা এক বা একাধিক নিরাপত্তা ক্যাটাগরির দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ‘অ্যালায়েন্স কখনো সেফটি ডেডলাইন এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজেদের কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তাছাড়া, জীবন-সুরক্ষামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যেখানে এক বছরেরও কম সময় লাগার কথা, সেখানে কেন কারখানাগুলোকে চার বছর সময় দেয়া হচ্ছে_ এ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যারা ‘অন ট্র্যাকে’ আছে বলা হচ্ছে তারও ব্যাখ্যা দেয়নি অ্যালায়েন্স।’
তবে অ্যালায়েন্স জরিপের গবেষণা পদ্ধতিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাদের অভিযোগ, পুরনো ও অযথার্থ তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমস মরিয়ার্টি বলেন, ‘২০১৮ সালে যখন চুক্তি শেষ হবে সে সময় নাগাদ কারখানাগুলো যে ক্রেতাদের চাহিদামতো পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে আমার আস্থা আছে।’
এদিকে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘অ্যাকর্ডের কাজে স্বচ্ছতা থাকলেও অ্যালায়েন্সের কাজে স্বচ্ছতা নেই। অ্যালায়েন্স কি কাজ করছে তার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে অ্যাকর্ড শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে রেখে কাজ করে তথ্য প্রকাশ করে।’
তিনি বলেন, ‘অ্যালায়েন্সের কাজের মনিটরিং এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে, নয়তো টার্গেট বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এমস্নয়িজ লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি জানান, ‘অ্যাকর্ড নানা শ্রমিক সংগঠন ও এনজিওর মাধ্যমে কাজ করে আর অ্যালায়েন্স নিজেরাই কাজ করে। তার মতে দুটি গ্রুপই ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। তবে টার্গেটে পৌঁছতে হলে সরকারের শ্রমমন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।’

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here