ডায়াবেটিস চিকিৎসা

0
2303

ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ কোনো জীবণু দ্বারা বিস্তার লাভ করে না। এন্টিবায়োটিক, টিকাসহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির ফলে জীবাণুবাহিত সংক্রামক রোগ অনেকটা দমন করা গেছে। আজকাল দুনিয়াব্যাপী ডায়াবেটিস, হাইপারটেনসন, হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক, অতিরিক্ত ওজন, কিডনি ফেইলুর, ক্যান্সার ইত্যাদি সংক্রামক রোগের প্রাধান্য। এদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশেও দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে প্রায় ৭০-৮০ লাখ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। এদের সবারই যে রোগ নির্ণিত হয়েছে এমন নয়। আনুমানিক ৫০ শতাংশ লোক জানে না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। যে ৩০-৪০ লাখ রোগী কোনো না কোনোভাবে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন তাদের চিকিৎসা কেমন হচ্ছে বা পরিণতি কী হতে যাচ্ছে তা অনুমান করা যায়। ডায়াবেটিস চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল চিকিৎসার মাধ্যমে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা হতে না দেয়া। চিকিৎিসা যথাযথ না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই কিডনি ফেইলুর, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, হাত-পা জ্বালাপোড়া, পায়ের বোধশক্তি কমে গিয়ে ক্রমান্বয়ে ঘা হওয়া, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ নানাবধি জটিলতায় জীবনের মান ক্রমাগত কমে যেতে থাকে। এতে রোগীর ব্যক্তিগত কষ্ট ছাড়াও পরিবার ও রাষ্ট্রের শ্রমশক্তি ও অর্থের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়। কীভাবে এসব প্রতিহত করা যায় বা কমানো যায় তা বিবেচনায় রেখেই ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসার টার্গেট ঠিক করা হয়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে যেসব দেশী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে গবেষণার আলোকে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, রোগ নির্ণয়ের পর থেকেই রোগীর রক্তের গ্লুকোজ ৪ থেকে ১০ মিলিমোল (৭০ থেকে ১৮০ মিলিগ্রাম)-এর মধ্যে রাখা বাঞ্ছনীয়। ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলে ঐন অ১প নামক পরীক্ষার ফল হবে ৭-এর নিচে। অনেক ডায়াবেটিস রোগীই জানেন তাদের রক্তে ঐন অ১প-এর মাত্রা কত- হয়তো অনেক বেশি। অথচ গবেষণায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ঐন অ১প-এর মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের সব ধরনের জটিলতার হার দ্রুত বাড়তে থাকে। উদ্বেগের বিষয় হল এই যে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীই রোগ নির্ণয় হওয়ার পর প্রথাগত চিকিৎসা সত্ত্বেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। অর্থাৎ বেশিরভাগ সময়ই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকছে। এর কারণ যাই হোক না কেন অনিয়ন্ত্রিত বা আংশিক চিকিৎসার ফলে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পরিপূর্ণ সুফল থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ, চক্ষু সমস্যা, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদিসহ নানা জটিলতা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এ চিত্র কমবেশি বিদ্যমান। সহজেই অনুমেয় যে আমাদের দেশেও ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসার লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরেই থাকছেন। কীভাবে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায় এ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। চিকিৎসকের পাশাপাশি রোগীদের ভূমিকাও স্বীকৃত। কি কারণে কোন রোগী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না তা নির্ণয় করে চিকিৎসা দিলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখার পাশাপাশি রোগীর ব্লাড প্রেসার, রক্তে কলস্টেরলের মাত্রা, দেহের ওজন ইত্যাদির চিকিৎসাও অতীব প্রয়োজন। রোগীরা যদি চিকিৎসার উল্লিখিত লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ সঠিকভাবে মেনে চলেন তবেই ডায়াবেটিস চিকিৎসার এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here