ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যেও কিছু অংশ

0
1215

আসসালামু-আলাইকুম! নমস্কার! অহফ অ ঠবৎু এড়ড়ফ গড়ৎহরহম!
শোকাবহ এই আগস্ট মাসে আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এই বাংলার মাটিতে যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র সৃষ্টি হতো না। আজ আমাদের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা কোথায় পড়ে থাকতো কেউ তা জানি না। আমি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমি মাগফেরাত কামনা করছি  ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সেই কালরাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নৃশংসভাবে নিহত সকল শহীদের আত্মার। আমি মাগফেরাত কামনা করছি  ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যাকৃত চার জাতীয় নেতার আত্মার। সেই সঙ্গে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবন উাসর্গকৃত ৩০ লাখ শহীদ যাঁদের আত্মত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোন যারা পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
    আমি সেই সাথে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যার জন্ম না হলে আজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হতো না। যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হতো না। যিনি সরকার গঠন না করলে দেশে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতো না। বাংলাদেশ থেকে বিচারহীনতার কলঙ্ক মোচন হতো না। বাংলাদেশের জেলায় জেলায় আজ সুউচ্চ আদালত ভবন নির্মাণ হতো না। কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেতো না।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ
    উচ্চ আদালতের একটি রায় অনুযায়ী দেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের পৃথকভাবে পথচলা শুরু হয় ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর। চলার শুরুতেই আদালতসমূহে বিশেষ করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহে এজলাসের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। ফলে বিচারকগণ এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন, তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। এমনি অবস্থায় ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে চলার ব্যবস্থা করে দিতে উদ্যোগী হন। তিনি বিচার বিভাগের মানোন্নয়নে নেন নানা পদক্ষেপ এবং নেন বিচার বিভাগের জন্য অবকাঠামো তৈরীর উদ্যোগ ।
সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ: আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর স্থান সংকুলানের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি জেলায় সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ চলছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ দ্রততার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ২০টি জেলায় নির্মিত আদালত ভবনে বিচারিক কাজ চলছে। ১৮টি জেলায় আদালত ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে ১০টি জেলায় নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এগুলোর নির্মান কাজ সম্পন্ন হবে। অন্য ৮টি জেলার আদালত ভবন নির্মাণ কাজও আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
৪টি জেলায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। এই ৪২টি জেলা ব্যতীত অবশিষ্ট ২২টি জেলায় আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং এগুলোতে ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
    বিদ্যমান জেলা জজ আদালত ভবনগুলোর উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ: বর্তমান সরকার শুধু সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে থেমে থাকেনি। সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণের পাশাপাশি ২০১৪ সালে ১৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮টি জেলায় পূর্বের ২-তলা জেলা জজ আদালত ভবনগুলো ৩/৪-তলা পর্যন্ত উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের  কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।
চৌকি আদালতের অবকাঠামো নির্মাণ: বিচারকার্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৯টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৫টি চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়েছে এবং জরাজীর্ণ চৌকি আদালতগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
    জেলা পর্যায়ে আবাসন নির্মাণ: আমরা জেলা পর্যায়ে বিচারকগণের জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য আলাদা বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
    বেতন ও সুবিধাদি বৃদ্ধি: বর্তমান সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালত পর্যন্ত সকল বিজ্ঞ বিচারকের বেতন ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তাঁদের ইতোপূর্বের বিচারিক ভাতাও বহাল রাখা হয়েছে।
গাড়ি সুবিধা প্রদান: বিগত কয়েক বছরে অধস্তন আদালতে কর্মরত বিজ্ঞ বিচারকগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৫৬টি  ুিসডান কার ও ৫৮টি মাইক্রোবাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার: সরকার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সেবার সাথে বিচারক ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সমান তালে এগিয়ে নিতে চায় এবং সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন একটি রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যেখানে সকল মানুষ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় সেবাসমূহ সহজেই গ্রহণ করতে পারবে। তাই জনগণকে অল্প সময়ে, অল্প খরচে ও সহজে বিচারিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিচার বিভাগে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করা হয়েছে।
প্রিয় ডিআরইউ সদস্যবৃন্দ
বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা প্রদান: একটি সুদক্ষ বিচার কর্ম বিভাগের জন্য প্রয়োজন সুদক্ষ মানবসম্পদ। এই মানবসম্পদের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশী প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯ সালে জুনের মধ্যে ৫৪০ জন বিচারককে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা প্রদানের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হবে এবং ২৯ মে ২০১৭ তারিখে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ জন্য সরকারের ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এছাড়া দেশের অধস্তন আদালতের দেড় হাজার বিচারককে প্রচলিত ও আদালত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  ভারতে পাঠানোর বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকালীন পৃথকদুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়েছে। এমওইউ অনুযায়ী, দেড় হাজার বিচারককে আগামী পাঁচ বছরে ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমিতে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে । আমার বিশ্বাস, এই প্রশিক্ষণ আমাদের বিচার বিভাগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।
ট্রাইবুনাল/আদালত স্থাপন: সন্ত্রাস বিরোধী মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৭টি সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছ্।ে এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ৭টি সাইবার ট্রাইবুনাল স্থাপনের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
    নতুনপদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদে বিচারক নিয়োগ: মামলাজট নিরোসনের লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য বিচারকের নতুনপদ সৃষ্টিসহ আদালত সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং শূন্যপদে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০০৯-২০১৭ মেয়াদে অধস্তন আদালতে ৬৮৪ জন সহকারী জজ ও সমমর্যাদার বিচারক  নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে ১০ম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত ২০৭  জনকে  নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
    ঘখঅঝঙ প্রতিষ্ঠা: বর্তমান সরকার যে শুধু বিচার বিভাগের মানোন্নয়নে কাজ করছে তা নয় দরিদ্র-অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে আইনি সেবা প্রদান করার লক্ষ্যে ৬৪টি জেলায় লিগাল এইড অফিস স্থাপন করে এগুলোতে লিগাল এইড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করে এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল গঠন করে অসহায় শ্রমিকদের সরকারী আইনি সেবা দেওয়া হচ্ছে। লিগ্যাল এইড অফিসারগণ দরিদ্র জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি আইনগত পরামর্শও প্রদান করছেন। মামলাজট নিরসনে জেলা ‘লিগ্যাল এইড অফিস’ কে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণ: বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী সমাজের ভূমিকাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আইন মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা আইনজীবী সমিতি ভবন মেরামতের জন্য দুই কোটি এবং বই পুস্তক ক্রয় বাবদ এক কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে। এছাড়া মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর তহবিল থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা আইনজীবী সমিতি ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য বর্তমান সরকারের বিগত সাড়ে আট বছরে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
    র্বতমান সরকার বচিার বভিাগরে মানোন্নয়নরে পাশাপাশি আইনরে শাসন প্রতষ্ঠিা করার লক্ষ্যে ঈঁষঃঁৎব ড়ভ ওসঢ়ঁহরঃু বা বচিারহীনতার সংস্কৃতি থকেে বরেয়িে এসে ন্যায় বচিার নশ্চিতি করছে।ে জাতরি পতিা বঙ্গবন্ধু শখে মুজবিুর রহমান ও তাঁর পরবিাররে সদস্যদরে নৃশংস হত্যাকান্ড ও জাতীয় চার নতো হত্যাকান্ড মামলার বচিার করছে।ে আর্ন্তজাতকি মান বজায় রখেে একাত্তররে মানবতাবরিোধী অপরাধে অভযিুক্তদরে বচিার করছ।ে
    পরিশেষে বলছি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে এই কাজ চলমান থাকবে। তার কারণ আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্রের বিকাশ এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি জোড় দিয়ে বলছি বর্তমান সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় শুধু বিশ্বাসী না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর।
    আপনারা ভাল ও সুস্থ্য থাকুন। সকলকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,
বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here