ত্যাগ ও আন্তশুদ্ধির ঈদুল আজহা

0
1003

মো. এনামুল হক লিটন
ত্যাগ ও আতœশুদ্ধির উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ২ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে মুসলমানের পবিত্র এই ধর্মীয় উৎসব। আল্লাহর নামে পশু কোরবানি এই উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ। সেজন্য ঈদুল আজহা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে  কোরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ইসলামী শরিয়তে শুধু সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। ঈদোৎসবের আরেকটি বড় দাবী হলো, সৌভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা। কোরবানির ঈদও এর ব্যতিক্রম নয়। কোরবানির মাংস গরিব-মিসকিন, আতœীয় ও অনাতœীয়ের মধ্যে বিতরণের ফলে সকলেই ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া কোরবানির চামড়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থের পুরোটাই গরিব-দুস্থদের হক। অন্যদিকে আমরা যখন ঈদ ও কোরবানির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তখন মক্কা মুয়াজ্জামায় হাজী সাহেবগণ ‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ বলে পবিত্র হজব্রত পালন করতে থাকেন। ঈদুল আজহার শিক্ষা হলো, ত্যাগের পথে আতœশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পবিএ ঈদুল আজহা হলো, পাশবিক প্রবৃত্তির কোরবানি করে মনুষ্যত্বের নবতর উদ্বোধনের দিন। এ দিনে মুসলমানগণ হিংসা-বিদ্বেষ, দ্বন্দ্ব-কলহ, বিবাদ-বিসম্বাদ ও পরশ্রীকাতরতা ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ ঘটান। মুসলিম মিল্লাতের জনক হযরত ইব্রাহিমের (আ.) দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মুসলমানগণ কোরবানি করে থাকেন। হযরত ইব্রাহিম খলিল (আ.) ৮২ বছর বয়স অবধি নিঃসন্তান ছিলেন। এ অবস্থায় তিঁনি একটি সন্তান লাভের আশায় মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ আমাকে একটি সৎ সহনশীল সন্তান দান করুন। দয়াময় আল্লাহ তাঁহার মোনাজাত কবুল করে পবিএ কোরআনে ইরশাদ করেন, ফাবাশশারনাহু বি গুলামিন হালিম অথ্যাৎ অতঃপর আমিও তাঁহাকে একটি সৎ সহনশীল সন্তানের সুখবর দিলাম। জন্মের পর সেই সন্তানের নাম রাখা হয় ইসমাঈল। ইসমাঈল যখন খেলাধুলা করার বয়সে উপনীত হলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিমকে (আ.) স্বপ্নযোগে প্রিয় পূত্র ইসমাঈলকে কোরবানি করার নির্দেশ দিলেন। রাব্বুল আলামিনের আদেশ পেয়ে আল্লাহর নবী ইব্রাহিম খলির্লুলাহ (আ.) প্রাণাধিক পূত্র ইসমাঈলকে কোরবানি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। শিশু ইসমাঈলও কোরবানি হতে সানন্দে রাজি হলেন। পুণ্যবতী মাতা হাজেরাও সম্মতি দিতে দ্বিধা করলেন না। মক্কার জনমানবহীন ধু-ধু মরুভূমি মীনায় পূত্র ইসমাঈল ও নিজের চোখে কাপড় বেঁধে আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে কোরবানি করার উদ্দেশ্যে প্রাণাধিক সন্তানের গলায় ছুরি চালালেন। আল্লাহ তায়ালা একটি বেহেস্তি দুম্বার মাধ্যমে ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানি কবুল করে নিলেন। সেদিন থেকে পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের এই প্রথা চিরস্থায়িরুপ লাভ করে। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ হতে উম্মতে মোহাম্মদ (সা.) কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে শুরু করেন। মোটকথা হলো, আল্লাহর নিকট কোরবানিকৃত পশুর রক্ত, মাংস, হাড় ইত্যাদির কোনো কিছুই পৌঁছায় না। পৌঁছায় শুধু বান্দার নিয়ত ও তাকওয়া বা খোদাভীতি। আল্লাহ আমাদের নামাজ ও কোরবানিসহ সকল ইবাদত কবুল করুন। আমীন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here