দেলু, ফিরোজ ,মুছার মুদ্রাপাচার-বাণিজ্য -১

0
495

বায়তুল মোকাররম মার্কেটে লোক দেখানো ব্যবসার অন্তরালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী মাফিয়া ডন ফিরোজ, দেলু, মূছার শত কোটি টাকার স্বর্ণ চোরাচালানীও মুদ্রা পাচারের অবৈধ ব্যবসা!
সফিউর রহমান সফিকঃ-রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে বেশ কটি দোকানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র নাম মাত্র ব্যবসার অন্তরালে দীর্ঘদিন যাবৎ কোটি কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান, দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার (হুন্ডি) ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বলে এমন গুরুতর ও অভিযোগ পাওয়া গেছে ঐ মার্কেটের ব্যবসায়ী দেলু, ফিরোজ, মুছাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকবার উক্ত মোর্কেটে ও তার আশপাশ  এলাকা থেকে আইন প্রয়োগ কারী সংস্থা হুন্ডির টাকাও অবৈধ স্বর্ণ আটক করার পরও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ ব্যবসা। বর্তমানেও বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নীচ তলায় একটি চক্র এই চোরাচালানী বাণিজ্য  করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে এ কথা জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রেও অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচারকারী চক্রটি আইন শৃংখলা বাহিনীর অসৎ কিছু কর্মকর্তার ছত্র ছায়ায় থেকে নিরাপদে দেশ বিরোধী এই অবৈধ ব্যবসা করছে বহুদিন থেকে। বিনিময়ে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তারা প্রতিমাসে চোরাকারবারীদের কাজ থেকে অবৈধ ব্যবসার সুযোগ করে দেবার সুবাধে উৎকোচ হিসাবে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এর ফলে অবাদে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। ক মাস আগে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনৈক মুদ্রা-পাচারকারী হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮৫ লাক্ষ টাকা আটক  করে। উক্ত ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও কদিন পর মার্কেটের সিকিউরিটিরা ১৬ কেজি স্বর্ণসহ চোরাকারবারীকে আটক করে। চোরাকারবার ও মুদ্রা পাচার বন্ধে সরকার কঠোর মুদ্রা পাচার আইন করার পরেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। একদিন যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত সেই দেলোয়ার হোসেন দেলু ও ফিরোজ চক্র  অবৈধ স্বর্ণ চোরাকারবারী, মুদ্রা পাচার (হুন্ডি) ব্যবসা করে এখন কোটি কোটি টাকা, একাধিক গাড়ী-বাড়ি, দোকান, ফ্ল্যাটের মালিক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উক্ত চক্রের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কোন প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় (হুন্ডি) দেলু, ফিরোজ, মুসারা এখন বেপরোয়া। এদিকে সোনা-চোরাচালান ও কোটি কোটি টাকার দেশী-বিদেশী মুদ্রা-হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারও  দেশে আনার বিষয়ে হুন্ডি ব্যবসায়ী-ফিরোজের সাথে তার মোবাইল ফোন ও টেলিফোনে যোগাযোগ করে তার অবৈধ ব্যবসার কথা জানতে চাইলে ফিরোজ ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তাকে ফোন করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র থেকে আরো জানা গেছে। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে নাম মাত্র ব্যবসার অন্তরালে দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার, স্বর্ণসহ অবৈধ ব্যবসা সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠা বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী মাফিয়া দেলোয়ার হোসেন দেলু, পিতা-মতলব, সাং-দত্তের চর, মোঃ ফিরোজ, পিতা-লনি মেম্বার, সাং-বড় বশুর চর , মোঃ মুছা সর্ব থানা-গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ। গং-এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন, সন্ত্রাসী চোরাকারবারী ও প্রবাসীদের বিপুল অংকের অর্থ আসছে। অন্যদিকে কালো টাকার মালিক  , চোরাকারবারীরা শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। এর বিনিময়ে মোটা অংকের কমিশন নিচ্ছে মুদ্রা পাচার চক্র। এই অবৈধ মুদ্রা পাচার দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। শুধু তাই নয় উক্ত চক্র গণ-গণ সিংগাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন। তাদের পাসপোটই প্রমাণ করে কিসের জন্য তাদের গণ-গণ বিদেশ যাত্রা। (হন্ডি) ব্যবসায়ী চক্রটি কোটি কোটি টাকার দেশী-বিদেশী মুদ্রার (হুন্ডি) ও সোনা চোরাচালানী ব্যবসাটি বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নীচ তলার গলির ভিতর ১২-ডি দোকানে নাহিদ টেডিং ও গজারিয়া এন্টার প্রাইজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দোকানের সামনে ও ভিতরে বাচ্চাদের কিছু খাবার আইটেম ও কসমেটিক সাজিয়ে সাধারণ লোকদের চোখে ফাঁকি দিয়ে ভিতরে দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচারকারী মাফিয়াদের নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে করছে মুদ্রা পাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান। সূত্রে প্রকাশ দেলু, ফিরোজ গং- ছাড়াও আরো একাধিক দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার (হুন্ডি ব্যবসা) ও সোনা চোরাকারবারী  চক্র রয়েছে উক্ত মার্কেটের নীচ তলায়। যারা নামমাত্র বিভিন্ন পন্যের দোকানের অন্তরালে অবৈধ স্বর্ণ ও টাকা পাচারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রতিনিয়ত। দেলু-ফিরোজ, মুছার মত অন্য চোরাকারবারীরা কোটি কোটি টাকার দেশী-বিদেশী হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করে দেশে ও বিদেশে পাচার করছে টাকা। যা বাংলাদেশ সরকারের অর্থ পাচার আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। টাকা পাচারকারী (হুন্ডি) ফিরোজ , দেলু, মুছা নিজেদের পাশাপাশি  ভাড়ায় লোক মারফত বিদেশ থেকে স্বর্ণ, ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন পন্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে খালাসও পাচার করছে যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চক্রটি দুবাই, সিংঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদী আরব, থাইল্যান্ড, ভারত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ, আমেরিকায় মুদ্রা-পাচারের হুন্ডি ব্যবসা করছে বলে অনুসন্ধানে এতথ্য জানা গেছে। এ দিকে অন্য একটি সূত্রে জানান, কিছুদিন আগে জিপিও এলাকায় হুন্ডি ও সোনা চোরাকারবারী ফিরোজ, দেলোয়ার হোসেন দেলু গং এর বাহক থেকে নগদ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকাও স্বর্ণ আটক করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুই ব্যক্তি । টাকা ও স্বর্ণ আটকের পর উপরের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে মোটা অংকের দেন দরবার এর বিনিময়ে হুন্ডি দেলুর টাকা সহ বহনকারীকে ছেড়ে দেন পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার ঐ ব্যক্তিদয়। এক সময়ে ফিরোজ , দেলু, মুছাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত, এই অভাবী মানুষ গুলো ভাগ্য বছরের জন্য চাকুরি নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়, কয়েক বছর বিদেশে চাকুরি করে হঠ্যাৎ বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ঝড়িয়ে পড়েন অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকান্ডে। এরপর শুরু করেন  দেশী-বিদেশী মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে পাচারের ব্যবসাসহ স্বর্ণ চোরাচালান। অন্য দিকে একাধিক সূত্রে আরো জানা গেছে, বিদেশ থেকে সন্ত্রাসী-জঙ্গী গোষ্ঠির কোটি কোটি টাকার মূদ্রা উক্ত চক্রের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে। আইনপ্রয়োগ কারী সংস্থা চক্রটিকে ধরলে বিরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। মুদ্রা-পাচারকারী (হুন্ডি ব্যাসায়ী) প্রধান মোঃ দেলোয়ার হোসেন দেলু, ও ফিরোজ গং-এর বিষয়ে কয়েকটির গোয়েন্দা সংস্থার কাছে মুদ্রা পাচারের সুনিদিষ্ট অভিযোগ থাকার পর চক্রটির বিরুদ্ধে আইনী কোন পদক্ষেপ না নেওয়াতে চক্রটি এখন বে-পরোয়া।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here