পঞ্চগড়ে অসত্য তদন্ত রিপোর্টের আলোকে ৫ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নাম ধারীরা সরকারি ভাতা ও রেশন ভোগ করছে

0
1669

আবুল খায়ের ভুইয়া ১৯৬৪ইং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রথম শ্রেণী ঠিকাদার কাজ নিয়ে বৃহত্তম রংপুর  ও দিনাজপুর জেলায়  আসেন। তিনি জন্মসুত্রে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার বাসিন্দা। পরবর্তিতে বিবাহ সুত্রে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি ভারতের কুচবিহার মুজিব ক্যাম্পে প্রশিক্ষন গ্রহন করে। জুন/৭১ইং ৩ শতাধীক প্রশিক্ষর প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বে কোম্পানী কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে ৬নং সেক্টর পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনির হাট এরিয়া নিয়ে পাক হানাদারের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। ৯ই ডিসেম্বর/৭১ইং দেবীগঞ্জ প্রবেশ করে পাক হানাদার বাহীনির সাথে যুদ্ধ করে দেবীগঞ্জ থানাকে হানাদার মুক্ত করে। সেই সুবাদে প্রতি বৎসর দেবীগঞ্জ মুক্ত দিবস পালন হয়ে আসছে। তিনি ১৯৭৪ইং পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব পালন করা কালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের ও স্থানীয় লোকের প্রতি হিংসা ও বাহিরাগত নোয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় অলিখিত ও অর্নিবাচিত শ্রী অনিল চন্দ্র ও শ্রী স্বদেশ চন্দ্র রায় দায়িত্ব গ্রহন করে হিন্দ্র সম্পদায়ের লোকজন অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করে। স্বাধীনতার পর দেবীগঞ্জে ১৭ জন স্থানীয় প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ১৯৮৬ সালে সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্দ্যেগ গ্রহন করিলে শ্রী অনিল চন্দ্র রায় ও শ্রী স্বদেশ চন্দ্র রায় শতভাগ মিথ্যা বিবরনী দিয়ে স্বজাতীর টানে ও অর্থের বিনিময়ে নিম্ন বর্ণিত অমুক্তিযোদ্ধা লোকদেরকে শহীদ ভাতা ও পঙ্গু ভাতা উত্তোলনের পদ সৃষ্টি করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক অভিযোগ করা সত্ত্বেও অধ্যবধি কোন কার্যকরি প্রদক্ষেপ সরকার কর্তৃক গ্রহন করে নাই। তদন্ত করার সুবিধার্থে ভুয়া সহীদ, পঙ্গু, আহত অমুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যাদি নিম্নœরুপ ঃ
১। শ্রী মতি অক্ষয় রানী, স্বামী-মৃত. জনিনাথ রায়, গ্রাম-মল্লিকাদহ, ৬নং সোনাহার ইউপি, উপজেলা-দেবীগঞ্জ, জেলা-পঞ্চগড়। সে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। ১৯৭৪ সালে তার নিজ বাড়ীতে অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার শ্বশ্মান ঘাটে দাহ করণ ছিন্ন অদ্যবধি বিদ্যমান। তার স্ত্রী ১৯৯৭ইং হইতে শহীদ ভাতা উত্তেলান করিয়া আসিতেছে। সরকারী গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা/৫ নং- ১৩১০।
২। মোঃ আঃ মান্নান, পিতা-মৃত. আঃ জব্বার, গ্রাম-দেবীগঞ্জ নতুন বন্দর, ৩নং দেবীগঞ্জ ইউপি, উপজেলা-দেবীগঞ্জ, জেলা-পঞ্চগড়। সে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। ২৩ শে মার্চ ১৯৭০ সালে বাড়ী হইতে কোথায় গিয়াছিল তাহার কোন খোজ নাই। সরকারি দপ্তরে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা বা মৃত এমনকোন তথ্য রেকর্ডভুক্ত নাই। তার স্ত্রী সহীদ ভাতা উত্তোলন করে। যাহার গেজেট নং-অতিরিক্ত সংখ্যা/৫ নং-১৩১৭।
৩। মোঃ আঃ কাদের, পিতা-মৃত আঃ করিম, গ্রাম-শেখবাধা, ১নং চিলাহাটি ইউপি, উপজেলা-দেবীগঞ্জ, জেলা-পঞ্চগড়। সে কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। অথচ তার স্ত্রীর নাম মোছাঃ আনোয়ারা বেগম। তিনি ১৯৭২ সালে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহন করে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় মির্জাগঞ্জ গ্রামে বসবাসরত। মোছাঃ আনোয়ারা বেগমের দ্বিতীয় স্বামীর নাম তমিজ উদ্দিন, গ্রাম-মির্জাগঞ্জ, ডোমার নীলফামারী। দ্বিতীয় স্বামীর ওরশে তার ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। উক্ত আনোয়ারা বেগম ১৯৯৭ ইং হইতে তার সাবেক মৃত্যু স্বামীর আব্দুল কাদের নামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহন করিয়া আসিতেছে। যাহার গেজেট নং-অতিরিক্ত সংখ্যা/৫ নং-১৩৩৫।
৪। শ্রী ক্ষেত্র মোহন রায়, পিতা-মৃত. সত্য নারায়ন, গ্রাম-সোনাহার, ৬নং সোনাহার ইউপি, উপজেলা- দেবীগঞ্জ, জেলা-পঞ্চগড়। সে কোন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন সময়ে কোন আহত বা পঙ্গু হয় নাই। সে দেবীগঞ্জ পরিবার কল্যান অফিসে (সরকারী) চাকুরী করিয়া আসিতেছে। কিন্তু সে আহত বা পঙ্গু হওয়ার ভুয়া কাগজ তৈরী করে পঙ্গু ভাতা উত্তোলন করিয়া আসিতেছে। যাহার গেজেট নং-অতিরিক্ত সংখ্যা/০৫ নং-১২৮১।
৫। শ্রী সত্যেন্দ্রনাথ রায়, পিতা-মৃত নকুল চন্দ্র রায়, গ্রাম-গজপুরী সোনাহার, ৩ নং দেবীগঞ্জ ইউপি, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়। সে মুক্তিযোদ্ধা বটে। ছোট বেলায় গরম পানি পড়ে গলায় পোড়ার দাগ হয়। যুদ্ধকালীন সময়ে সে কোন আহত বা পঙ্গু হয়নি। অথচ সে পঙ্গু/আহত ভাতা উত্তোলন করিয়া আসিতেছে।
মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার আবুল খায়ের ভুইয়া গত ২৫/১০/১৬ইং ভুয়া শহীদ, আহত, পঙ্গু মৃক্তিযোদ্ধাদের বিস্তারিত বর্নণা দিয়ে আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম পি, মাননীয় মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ আনয়ন করিলে মন্ত্রী মহোদয় (জরুরী) উল্লেখিত ৫ জনের ভাতা রাখা হোক, তদন্ত্র হবে মর্মে এম.ডি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টকে নির্দেশনা দিলে বর্নিত ৫ জনের রেশন ও ভাতা বন্ধ হয়। পরবর্তিতে অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট পঞ্চগড়-কে তদন্তের দায়িত্ব দিলে তিনি অভিযোগ কারীকে কোন নোটিশ জারী না করিয়া গত ৩১/০৬/১৭ইং তারিখে মনগড়া একতরফা তদন্ত করেন। তদন্তকালে কোন কাগজপত্র (মুক্তিবার্তা, গেজেট, সাময়িক সনদপত্র) জাতীয় পরিচয়পত্র কিছুই যাচাই-বাছাই করেন নাই। তদন্তকালে বহিরাগত কয়েকজন লোক ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শ্রী স্বদেশ চন্দ্র রায়ের সুপারিশক্রমে একতরফা ভাবে উপরোক্ত ৫ জনের আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলিয়া লিখিত দিলে তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট তাহাদের স্বúক্ষে রিপোর্ট পেশ করার ফলে পুনরায় বর্ণিত ৫জন ভুয়া সহীদ, পঙ্গু, আহত মুক্তিযোদ্ধা নামধারী ও রেশন সহ ভাতা ভোগ করে আসছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাষনকে হাত করে সরকারি টাকা এইভাবে লুটপাট করে আসছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবুল খায়ের ভুইয়া, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার এর আবেদন পুণঃ তদন্ত করে ভুয়া সহীদ, পঙ্গু, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও রেশন বাতিল সহ পূর্বের গৃহীত সকল টাকা আদায়ের জন্য আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here