প্রধান বিচারপতির ছুটির পরিণতি হবে ভয়াবহ : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

0
532

প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য করে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এ যাত্রায় সরকার নিজেদের সফল ভাবলেও তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে “আদালত ধ্বংসের নীলনক্শার প্রতিবাদে” শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কোনো বিষয়বস্তু না, বিষয়বস্তু হলো বিচার বিভাগ। আওয়ামী লীগের লোকেরা অশ্রাব্য এবং অসংশোধনীয় ভাষায় গালাগালি করে, তাতে কী আদালত অবমাননা এবং মানহানি মামলা হয় না? প্রধান বিচারপতির এই ছুটির আগে ১ মাসের ছুটি নিয়ে জাপান এবং কানাডা সফর করেছেন, সেই ছুটির চিঠি আইন মন্ত্রী টেলিভিশনে দেখাননি।’ ‘এবারের চিঠিতে পাঁচটি ভুল নিয়ে প্রধান বিচারপতি স্বাক্ষর করেছেন, আদৌ উনি কি স্বাক্ষর করেছেন? উনি (প্রধান বিচারপতি) অসুস্থ কিন্তু কই গেলেন? ঢাকেশ্বরী, গেলেন অষ্ট্রেলিয়ান এ্যাম্বাসীতে। সরকারের ফরমায়েশ লোকেরা তার সাথে দেখা করতে পারেন কিন্তু আইনজীবিদের দেখা করতে দেয়া হলো না। গোটা ব্যবস্থাটাই কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হামলা। তাহলে রাষ্ট্রের অস্থিত্ব কোথায়? আর গণতন্ত্র শব্দটা বাদ দেন, সেটা কাগজে কলমে আছে।’ বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘বিচার বিভাগ সরকারের নয়, জনগণের। সুতরাং জনগণের কথা বলার অধিকার আছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মত নির্বাচন আর শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব নয়। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। তার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার পতনই এখন মূল উদ্দেশ্য এর আগে নির্বাচন নিয়ে কোন কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসময় দেশের প্রতিটি স্তম্ভের উপর নগ্ন হামলার বিরুদ্ধেই কলম চালানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতিও আহবান জানান গয়েশ্বর।
প্রতিবাদ সভার সভাপতি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সকল স্তরে দুর্নীতি ও নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস লীলায় মেতে উঠেছে। সর্বশেষ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর পরিণতি শুভ হবে না। দেশের শিক্ষক সমাজ সহ সর্বস্তরের মানুষ সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এজন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী, সহ-আইন সম্পাদক এড. সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবাহ, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব মোঃ জাকির হোসেন, দপ্তর সচিব অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিঞা, মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মাওঃ দেলোয়ার হোসেন, কিন্ডার গার্ডেন এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ উদ্দিন, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিঞা মোঃ আনোয়ার সহ জাতীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here