ফেনীতে নিজাম হাজারী বনাম সাংবাদিক কাজী ফারুক লড়াই

0
2352

স্টাফ রিপোর্টারঃ  
ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ফেনীতে সিনিয়র সাংবাদিক ও অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ম সাম্পাদক, অনলাইন প্রেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কাজী ফারুক এর সাথে ইয়াবা ডিলার, একরামের খুনী, জেল পালাতক, ভূমিদস্যু, টেন্ডারবাজ, বিনাভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিতর্কিত নিজাম উদ্দিন হাজারীর কার্যত লড়াই চলছে।
কাজী ফারুক ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি জয়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিদাতা ও সভাপতি। তাছাড়া এলাকার অনেক সামাজিক আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দেন। তিনি জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচিত দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পতন না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯০ সনের ১৪ইং আগষ্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আওযামীলীগে যোগদান করেন। পরে সফল দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক  বি.এস.সি’র সাথে কেন্দ্রীয় দপ্তরে কাজ করেন। কাজী ফারুক ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত। তিনি ১৯৮৩ সনে ফেনী থেকে প্রকাশিত মির্জা আব্দুল হাই সম্পাদিত সাপ্তাহিক গ্রামদেশের সহকারী সম্পাদক ছিলেন।
নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনীর মাস্টার পাড়ার জয়নাল আবেদীনের পুত্র। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্রলীগে নাম লিখিয়েই আগ্রাবাদ এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতী, লুটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় তার নামে হত্যাসহ কয়েকটি মামলা হয়। স্বর্ণের দোকান লুটের মামলায় অস্ত্র ও বুলেটসহ হাতে নাতে ধরা পড়লে, শুনানী শেষে চট্টগ্রামের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তার ১০ বছর সাজা হয়। পরে রিভিউতেও তার সাজা বহাল থাকে। আর্জি পাল্টিয়ে আস্ত্রের বদলে চাক্কু আর ১০ বছর সাজার বদলে চাক্কুর মামলায় ৫ বছর যাবত জেলে উল্যেখকরে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জালিয়াতি করে জামিন নিয়ে ২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন সাজা কম কেটে বেরিয়ে যান। এই জালিয়াতির ঘটনায় শাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া বাদী হয়ে ২০১৪ সানের ৮ জুন মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। বিচারপতি মির্জা হেসেন হায়দার ও বিচারপতি খেরশেদ আলম সরকার এর দ্বৈত বেঞ্চ নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদ কেন অবৈধ হবেনা মর্মে রুল জারি করেন। ২০১৬ সনের ৬ ডিসেম্বর বিচারপতি মোঃ এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ, আর, এম, নাজমুল আহসান এর দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। বর্তমানে রিট মামলাটি ৫৫৫৬/২০১৪ বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের একক বেঞ্চে শুনানী চলছে। বাদী, বিবাদী উভয় পক্ষকে রায়ের কপি সরবরাহের জন্য দুই দফায় প্রথমে তিন সপ্তাহ ও পরে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। ২০১৪ সনের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমী এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে প্রথমে কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা করা হয়। শেষে আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। আগুনে পুড়ে একরাম ছাই হয়ে যায়। ফেনীতে পোষ্ট মর্টেম করা সম্ভব না হলে, তাকে ডি, এন, এ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম হাসপাতালে নিতে হয়। এই হত্যার জন্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে দায়ী করা হয়। দীর্ঘদিন সকল জাতীয় দৈনিকে এই হত্যার সাথে নিজাম হাজারী জড়িত বলে নিউজ করলেও চার্জশীটে তাকে বাদ দেয়া হয়। একরাম হত্যা মামলায় এখন স্বাক্ষ্য গ্রহন চলছে। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে র‌্যাব রুটি সোহেল নামে একজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছে।
একরামকে খুনের পর থেকে ফেনীর কেউই নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চায়না। ভয় পায়। এত আপকর্মের পরেও সে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। ফেনীতে নিজাম হাজারী ও তার লোকেরা যা বলে, তাই হয়। প্রশাসন ও তাদের কব্জায়। এই অবস্থায় সিনিয়র সাংবাদিক ও অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ম সম্পাদক, অনলাইন প্রেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কজী ফারুক বিবেকের তাড়নায় গত ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ তারিখের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শতশত লোক নিয়ে তার নেতৃত্ব বিশাল মানববন্ধন করেন, ধারাবহিক ভাবে নিজাম হাজারীর অপকর্ম অপরাধ বিচিত্রায় লিখছেন, নিজাম হাজারীর গ্রেপ্তারের দাবীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যানার টাঙ্গান এবং গত তার নেতৃত্বে ২০ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভি.আই.পি লাউঞ্জে একরামের ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরন সভার আয়োজন করেন এবং একরাম হত্যার সাথে নিজাম হাজারী জড়িত বলে সমলোচনা করেন। ২১ মে ২০১৭ তারিখে বিকাল অনুমান ৫ টায় হোন্ডা যোগে ১০/১২ জন সশস্ত্র মাস্তান পাঠিয়ে কাজী ফারুকে হত্যার চেষ্টা করেন। এই বিষযে প্রথমে গত ২৫ মে ২০১৭ তারিখে বিজ্ঞ এম, এম, এস, এম মাসুদ জামানের আদালতে সাংবাদিক কাজী ফারুকে হত্যা চেষ্টার অভিয়োগে একটি মামলা করেন। বিজ্ঞ ম্যাজিষ্টেট্র আদেশ পরে দিবেন বলে ২৮ মে ২০১৭ তারিখে মামলাটি খারিজ করে দেন। কাজী ফারুক গত ২ জুলাই ২০১৭ তারিখে বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ কামরুল ইসলাম মোল্লার আদালতে রিভিশন মামলা করেন। মামলা নম্বর দায়রা ৫৬৮/১৭। বিজ্ঞ জজ মামলাটি গ্রহন করে আগামী ১৬ আগষ্ট সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে নোটিশ জারির আদেশ দেন।
মামলাটি করার পর নিজাম হাজারীর গত ১৯ জুন ২০১৭ তার লোক সোহেল চৌধুরীকে দিয়ে ফেনীর  বিজ্ঞ আদালতে কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি সমাজ সেবা কর্মকর্তা, ছাগল নাইয়াকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে ২১ জুন ২০১৭ তারিখে ছাগলনাইয়া থানায় আরেকটি মামলা করেন। কোন রকম তদন্ত ছাড়া মোট অংঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ছাগল নাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ মামলাটি রুজু করেন। দুইটি মামলার বাদীই সোহেল চৌধুরীর এলাকা পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব শিলুয়া গ্রামে। ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরীর ভাই জুয়েল চৌধুরী। কাজী ফারুক সহ পরিবারে ঢাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন এলাকায় জান না । নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে মামলা করার পর মামলা দুইটি করা হয়েছে। তিনি দুই জন বাদীর কাউকে চিনেননা। মামলা দুইটিই ১০০% মিথ্যা। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে ফেনীতে এখন কার্যত সাংবাদিক কাজী ফারুক বনাম নিজাম উদ্দিন হাজারীর লড়াই চলছে। কাজী ফারুক জানান, এই কুখ্যাত নিজাম হাজারীর পতন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here