বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি লক্ষ্মীপুরে ২৮ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ,

0
457

এস.এম আওলাদ হোসেন ঃ লক্ষ্মীপুর
অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে বিগত যেকোন সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় কৃষকরা এবার উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের পূর্বাচী, ব্রিধান-৪৮, ব্রিধান-২৭, ব্রিধান-৫৫,বিআর-২৬, ব্রিধান-৪৩,বিআর-২ ও স্থানীয় কালাসাইট্টা, বৈলামসহ একাধিক জাতের আউশ আবাদ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে উফশী জাতের পূর্বাচী এবং স্থানীয় কালাসাইট্টা জাত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৮ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় উফশী জাতের ৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৬০০ হেক্টরসহ মোট ৪ হাজার ১৩০ হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় উফশী জাতের ৪ হাজার ১০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৭০ হেক্টরসহ মোট ৪ হাজার ৮০ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় উফশী জাতের ৫ শত ৫০ হেক্টর, রামগতি উপজেলায় উফশী জাতের ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৩ শত হেক্টরসহ মোট ৮ হাজার ৪ শত হেক্টর কমলনগর উপজেলায় উফশী জাতের ৮ হাজার ৫ শত হেক্টর, স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৫ শত হেক্টরসহ মোট ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে,যা গতবারের তুলনায় ৩৩০ হেক্টর বেশি চাষ করা হয়েছে। গত বছর আউশ ৫৯ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন উৎপাদন হলেও এবার তা ১ লক্ষ মেট্রিক টনের কাছাকাছি পৌঁছবে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশাবাদী।
কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন এলাকার কৃষক জবিউল হক জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২ একর জমিতে পূর্বাচী উফশী জাতের আউশ ধান চাষ করেছেন। এছাড়া সরকারী প্রণোদনা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরামর্শ দেয়ায় ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের কৃষক আবুল কালাম জানান, বোরো ধানে লোকসান হলেও তিনি বর্গা নিয়ে ৫ একর জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন। তিনি স্থানীয় কালাসাইট্টা চাষ করে বেশ ভালো ফলন হওয়ায় বোরো ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করেন।
একইভাবে সদর উপজেলার চররমনী মোহন গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমন ধান জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষেতের চাষকৃত আউশ ধানের ভালো ফলন হওয়ায় তিনি বেজায় খুশি। ধানে কিছুটা পাক ধরেছে, দু-এক সপ্তাহের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল হোসেন জানান, বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা দিন দিন আউশ উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, সেচ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করায় জেলায় আউশের আবাদ বেড়েছে অনেক।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here