বেদনাবিধুর আগষ্ট : শোক নিয়ে ফিরে আসে বারবার

0
1804

সাহেনা আক্তার হেনা
শোকের মাস আগষ্ট। পচাত্তরের পনের আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে একদল বিপদগামী সেনা সদস্য। পনের আগষ্ট; বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। এক হৃদয় বিদারক, পৈশাচিক, মর্মান্তিক দিন এটি। দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাক্লিষ্ট ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। পচাত্তর সালের এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদাৎ বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে আতœার মাগফেরাত কামনা করছি জাতির পিতাসহ সেদিনের সকল শহীদদের। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। তাঁরই নেতৃত্বে বাঙালি জাতি অর্জন করে বহুকাঙ্খিত স্বাধিনতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫৮-এর সামরিক শাসন বিরোধি আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনসহ এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিঁনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এদেশের জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্ধুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধিনতা ঘোষনা করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই মহান নেতাই। এজন্য কারাবরণসহ অমানুষিক নির্যাতনও সহ্য করতে হয় তাঁকে বহুবার। প্রাসঙ্গিকভাবেই বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি এবং বঙ্গবন্ধু এক অবিছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। দেশের স্বাধিনতা বিরোধি, ষড়যন্ত্রকারি ও ঘাতক চক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবণে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হন। একইসাথে শহীদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল, মেঝ ছেলে শেখ জামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল। ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি নিস্পাপ শিশুও। ঘাতকের তপ্ত বুলেটে বিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলও। বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরও রক্ষা পাননি ঘাতকদের হাত থেকে। ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের শিকার হন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী বেগম আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছোট ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। সেদিন ঘাতকচক্র হত্যা করেছে জাতির পিতাকে, জাতির বিবেককে, জাতির গৌরবকে। কিন্তু হত্যা করতে পারেনি জাতির মন থেকে তাঁর আদর্শকে। তাঁর নীতিকে। বাংলাদেশ নামক দেশটির মহান স্থপতির বিদাইয়ে বাস্তবিক অর্থেই দেশ অনেক বছর পিছিয়ে যায়। যে ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ। এ অপূরণীয় ক্ষতি পোষাবার নয়। আগষ্ট তাই শোক নিয়ে ফিরে আসে বারবার।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here