সোনারগাঁয়ে ফসলী জমির তীর থেকে ফের বালু উত্তোলন। গ্রামবাসীদের ধাওয়া

0
497

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীর আনন্দবাজার বালু মহালে চান্দেরপাড়া এলাকায় ফের বালু খেকোদের ধাওয়া করেছে গ্রামবাসী। গতকাল রোববার দুপুরে ড্রেজার নিয়ে কৃষকদের ফসলী জমির তীর ঘেষে বালু উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে এ হামলা চালান। পরে বালু খোকোরা পুলিশ নিয়ে আবারো বালু উত্তোলনের চেষ্ঠা করে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলা মেঘনা নদীর আনন্দবাজার বালু মহালে দীর্ঘ দিন বালু উত্তোলন বন্ধের পর আবারো শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন। মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য আবু নাইম ইকবাল, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল হক, তার ভাই তাজুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান আবু দাইয়ান সহ একটি শক্তিশালী চক্র। বালু উত্তোলনকারী তাদের সীমানা অতিক্রম করে ফসলী জমির তীর ঘেষে বালু উত্তোলনের চেষ্ঠা চালায়। গত শুক্রবার বারদী ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া গ্রামের কৃষকদের ফসলী জমির তীর ঘেষে বালু উত্তোলন করতে গেলে গ্রামবাসীরা ধাওয়া করলে বালু খোকোরা পালিয়ে যায়। গতকাল রোববার আবারো কয়েকটি ড্রেজার নিয়ে চান্দেরপাড়া, সেনপাড়া, দলরদী গ্রামের কৃষকদের ফসলী জমির তীর ঘেষে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালায়। পরে ওই তিন গ্রামের নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে বালু খোকোদের ধাওয়া করেন। পরে বালু খোকোরা ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালায়।
এ দিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি ও অনেক গ্রাম ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি গ্রাম ও কয়েক হাজার হেক্টর কৃষি জমি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চান্দেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন ও তোতা মিয়া জানান, আমাদের ফসলী জমির তীর ঘেষে বালু উত্তোলনের ফলে জমির মাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রোববার আমরা গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে ধাওয়া করলে বালু খোকোরা পুলিশ নিয়ে এসে আবারো বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দলরদী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল হক সহ তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের ফসলী জমির মাটি লুট করে নিচ্ছে। গ্রামবাসীদের নিয়ে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জহিরুল হক ও আবু নাইম ইকবাল বলেন, তারা বালু মহালের সীমনার ভেতরেই বালু উত্তোলন করছেন। কৃষকদের কোনো ফসলী জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছেনা। কৃষকরা না বুঝেই আন্দোলণ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর ইসলাম জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here