সোরিয়াসিস সম্পর্কে সচেতন হোন

0
732

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সোরিয়াসিস বিশেষ ধরনের চর্মরোগ, যা সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয়। এই রোগ কখনই সারে না। আবার এ রোগের কারণে মৃত্যুও হয় না। দীর্ঘ মেয়াদে এই রোগের জটিলতা বাড়তে থাকে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

Advertisement

আজ রোববার সকালে রাজধানীর রমনায় একটি অভিজাত ক্লাবের মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে সোরিয়াসিস সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে ‘সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব’ গঠন করা হয়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে এই নতুন ক্লাব আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। অধ্যাপক সামিউল হককে প্রেসিডেন্ট, অধ্যাপক মুনির রশিদ ও রাশেদ মো. খানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এম আবু হেনা চৌধুরীকে মহাসচিব করে এই ক্লাবের ১৭ সদস্যের সাংগঠনিক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সামিউল হক বলেন, এই রোগ একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা। দেশের কত মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, তাঁর কোনো হিসাব বা পরিসংখ্যান নেই। সোরিয়াসিস রোগ নিয়ে দেশে এই প্রথম ক্লাব গঠন করা হলো। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের মূল বক্তব্য হবে সবার মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।’

আলোচনায় মূল বক্তা ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক এম মুজিবুল হক। তিনি বলেন, সোরিয়াসিস রোগ কেন হয়—তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৯ অক্টোবর বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সোরিয়াসিস! জানুন, সচেতন হোন’। সারা বিশ্বে সাড়ে ১২ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা সংবাদকর্মী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। সোরিয়াসিস রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেবেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা দরকার। এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তিনি সারা জীবনের জন্য রোগী। এখন পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্যের চিকিৎসাও নেই।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বক্তব্য থেকে সোরিয়াসিস সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

সোরিয়াসিস কী

সোরিয়াসিস কোনো সংক্রামক রোগ নয়। ত্বকের প্রদাহজনিত অন্যান্য চর্ম রোগের মতোই এটি। তবে এটি শুধু চর্ম রোগ নয়, এটি মানসিক ও অন্যান্য শারীরিক রোগেরও কারণ। অতিরিক্ত শারীরিক জটিলতা রোগীকে হতাশায় ফেলে।

কেন ও কীভাবে সোরিয়াসিস হয়

যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে ৩০ বছর বয়সের পরে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কেন এ রোগ হয়, তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে বংশগত কারণেও এ রোগ হয়। মানুষের ত্বকের কোষ প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই মারা যাওয়া কোষের সংখ্যা ও বিস্তারের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ত্বকের সবচেয়ে গভীর স্তর থেকে মৃত কেরাটিনোসাইটস কোষ ওপরের স্তরে আসতে লাগে ২৮ দিন। কিন্তু সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে সময় নেয় পাঁচ থেকে সাত দিন।

গবেষণায় এসেছে, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, মুখগহ্বরে সংক্রমণ, ত্বকে আঘাত বা আবহাওয়ার কারণে সোরিয়াসিস হতে পারে। এ ছাড়া ধূমপান, মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ ওষুধ সেবন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ সেবন এবং স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ নেওয়ার কারণেও সোরিয়াসিস হতে পারে।

উপসর্গ

সোরিয়াসিস রোগে ত্বক পুরু হয়ে লালচে দাগ পড়ে। ত্বক চুলকাতে পারে, ব্যথাও হতে পারে। আক্রান্ত স্থান রুপালি-সাদা আঁশ দ্বারা আবৃত থাকে এবং লালচে বর্ণের ক্ষত দেখা যায়। কনুই, হাঁটু, মাথা, হাত এবং পায়ের নখে এটা হয়। মাথার ত্বক, আক্রান্ত হাত এবং পায়ের নখের রং নষ্ট হয়ে গর্ত হয়ে যায়। যে সব রোগী বহু বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত, তাঁদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর এই রোগের প্রভাব পড়ে। এ থেকে যকৃতের রোগ, আর্থরাইটিস, হৃদ্‌রোগ ও রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।

প্রতিকার

শরীরের অল্প অংশ আক্রান্ত হলে ক্রিম, পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। এতে শুষ্ক ত্বক আর্দ্র থাকে। আর বেশি জটিলতা দেখা দিলে ওষুধ খেতে হবে। আলট্রাভায়োলেট ও বায়োলজিক্যাল থেরাপি নিতে হবে। এ রোগে আক্রান্ত হলে সরাসরি রোদে বেশিক্ষণ থাকা উচিত নয়। শুরুতে নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়লে এই রোগের জটিলতাও বেড়ে যায়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here