স্বাস্থ্য সেবার নামে চলে রমরমা বাণিজ্য

0
1668

নিখিল মানখিন ? অনেক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অনুমোদন পাওয়ার পর শর্ত ভঙ্গ, অব্যবস্থাপনা ও তুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একের পর এক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিককে জেল জরিমানা করেছে। অভিযোগ উঠেছে, দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো বেশিমাত্রায় ব্যবসায়িক হয়ে ওঠায় রোগীর জীবনের চেয়ে অর্থ উপার্জনই মুখ্য হয়ে উঠছে। নানা কৌশলে দুর্বল অবকাঠামো দিয়ে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা প্রদানের অভিনয় করে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে দেশের চিকিৎসাসেবা, বিপন্ন হয়ে পড়ছে রোগীর জীবন। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত সর্বক্ষণিক চিকিৎসকের অভাবে চরমভাবে ব্যাহত হয় বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। অথচ সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসকের বড় অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক বা বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না। রোগ ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডেকে নেয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক বেসরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সঙ্কটাপন্ন রোগীর প্রয়োজনে সঠিক সময়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসক আসার আগেই অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। ক্লিনিকগুলো মূলত সরকারী খাতের চিকিৎসকদের ওপর নিভর্রশীল। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমোদন পেতে মোট একত্রিশটি শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু প্রদত্ত আবেদনপত্রের ৩১ তথ্য কাগজেকলমে ঠিক থাকলেও অধিকাংশ শর্ত পূরণ করেন না মালিকরা। আর আইসিইউ নিয়ে ফাঁকিবাজি ও আর্থিক বাণিজ্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করছে অনেক হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে রাজধানীর অনেক বেসরকারী হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)।
নগর স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারী খাতের ভূমিকা নিয়ে এক গবেষণা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ চিকিৎসক ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করেন। অন্যদিকে সরকারী খাতের ৮০ শতাংশ চিকিৎসকও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিক্রাল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) হিসাব মতে, দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ৪৭ মালিক, ২০ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ও ২০ রোগীর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩০ প্রতিষ্ঠানের ওপর পর্যবেক্ষণ তথ্য গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত থাকে। ক্লিনিকগুলো মূলত সরকারী খাতের চিকিৎসকদের ওপর নিভর্রশীল। দেশের আইনে বলা আছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিজের প্রতিষ্ঠানের বাইরে রোগী দেখতে পারবেন না। কিন্তু অনেক বেসরকারী ক্লিনিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা রোগী দেখেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের একটি হিসাব এতে দেয়া হয়েছে। ওষুধের ও চশমার দোকান বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৭। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক আছে ১০৫।
শর্ত পালন করে না অধিকাংশ হাসপতাল-ক্লিনিক স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমোদন পেতে আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিকের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর, মোট শয্যা সংখ্যা, হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার তারিখ,  প্রতিষ্ঠানের ধরন, মালিক/মালিকদের ছবি-নাম ও পূর্ণ ঠিকানা এবং টেলিফোন নম্বর, মালিক/মালিকরা সরকারী চাকরি করলে তার বিবরণ এবং না করলে অঙ্গীকারনামা, যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি, আমমোক্তারনামার সত্যায়িত কপি, বাড়িভাড়া চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিজ বাড়ি হলে দলিলের সত্যায়িত কপি, ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি, রোগীদের জন্য বিভাগভিত্তিক সেবা প্রদানের তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানে যে সমস্ত অস্ত্রোপচার করা হবে তার তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানে মোট মেঝের (ফ্লোর) পরিমাণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একক কেবিন সংখ্যা, শীতাতপবিহীন একক কেবিন সংখ্যা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডবল কেবিন সংখ্যা, শীতাতপবিহীন ডবল কেবিন সংখ্যা, সাধারণ ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা, রোগীদের জন্য প্রদত্ত মেঝের পরিমাণ, কেবিন ও ওয়ার্ডের প্রকৃত মেঝের পরিমাণ ২১, অস্ত্রোপচার কক্ষ-অস্ত্রোপচার কক্ষের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে) ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কিনা ২২. প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি ও সম্মতিপত্র, সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও সরকারী চাকরি না করার অঙ্গীকারনামা, সার্বক্ষণিক নার্সদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও সরকারী চাকরি না করার অঙ্গীকারনামা, সার্বক্ষণিক ঝাড়ুদার, ওয়ার্ড বয়, আয়ার ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রের কপি, সার্বক্ষণিক অন্য কর্মচারীদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রের কপি ২৯. প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত অন্য সুবিধাদি (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), পানি সরবরাহ, পয়ঃ প্রণালী, জরুরী বিদ্যুত ব্যবস্থা (জেনারেটর), আলো-বাতাস ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় আছে কিনা? ৩১. প্যাথলজি পরীক্ষার সুযোগ আছে কী? কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রদত্ত আবেদনপত্রের ৩১টি তথ্য কাগজেকলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় না। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশে ৮ হাজার ৬২০টি নিবন্ধিত ও বৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রের ৬৬০টি রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। তবে ধারণা করা হয়, এর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হবে, যার বেশিরভাগেরই নেই সরকারী অনুমোদন। আইসিইউ নিয়ে ব্যবসা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করছে অনেক হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে রাজধানীর কিছু সংখ্যক হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মেডিক্যাল উপকরণ ও ওষুধের পরিমাণ দেখিয়ে বিল বাড়িয়ে দেয়া হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয় না। দু-তিনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সব রোগের চিকিৎসা করানোর ব্যবসা চালানো হয়। অনেক হাসপাতালে আইসিইউর শতকরা ৭০ ভাগ শয্যার সঙ্গে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নেই। শতকরা ৬০ ভাগ আইসিইউতে প্রতিটি শয্যার জন্য একজন করে সেবিকা নেই। আর যেসব সেবিকা আছেন, তাদের শতকরা ৬৪ ভাগ সেবিকার প্রশিক্ষণ নেই। খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই উচ্চ ফি ও সীমিত শয্যার কারণে আইসিইউ সেবা নিতে পারে না অনেক দরিদ্র রোগী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানেসথেসিয়া, এ্যানালজেসিয়া, এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউতে রোগীকে উঠানো-নামানো, কাত করাসহ বিভিন্ন অবস্থানে রাখার জন্য বিশেষায়িত শয্যার দরকার। প্রত্যেক রোগীর জন্য পৃথক ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) ও কার্ডিয়াক মনিটর (হৃদযন্ত্রের অবস্থা, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি, রক্তচাপ পরিমাপক), ইনফিউশন পাম্প (স্যালাইনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র) দরকার। আইসিইউতে শক মেডিশন (হৃদযন্ত্রের গতি হঠাৎ থেমে গেলে তা চালু করার যন্ত্র), সিরিঞ্জ পাম্প (শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে যে ওষুধ প্রবেশ করানো হয় তার মাত্রা নির্ধারণের যন্ত্র), ব্লাড ওয়ার্মার (রক্ত দেয়ার আগে শরীরের ভেতরকার তাপমাত্রার সমান করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র) থাকবে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এবিজি মেশিন (মুমূর্ষূ রোগীর রক্তে বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ধারণ) থাকতে হবে। তারা বলেন, জরুরী পরীক্ষার জন্য আইসিইউসির সঙ্গে একটি পরীক্ষাগার থাকাও আবশ্যক বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
জটিল রোগের চিকিৎসায় ও জরুরী প্রয়োজনে আইসিইউর সেবা নিতে হয়। চিকিৎসকেরাও এ সেবার কথা ব্যবস্থাপনাপত্রে লেখেন। কিন্তু খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অভিযোগ করেন, বর্তমানে আইসিইউ একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আইসিইউগুলো কে কীভাবে চালাচ্ছে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিতে থাকা উচিত। রাজধানীর নামী হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর দৈনিক খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাঝারি হাসপাতালগুলোতে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বলা হলেও তার দ্বিগুণ টাকা দিতে হয় রোগীদের। এদিকে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) নামে উচ্চ ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু প্রতিদিন প্রতি বেডের পেছনেই গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বাড়তে থাকে আইসিইউর দৈনিক চিকিৎসা ব্যয়। প্রতিদিন গড়ে একজনকে রোগীকে দিতে হয় ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উচ্চহারের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউ সেবা গ্রহণ করতে পারে না স্বল্প আয়ের লোকজন। টাকার অভাবে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় অনেক রোগীকে। অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা থাকার পরও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আইসিইউ ফি কমানো সম্ভব এবং উচিত বলে মনে করছেন দেশের বিভিন্ন পেশাজীবীর লোকজন। ব্যবসার পাশাপাশি সেবার মনোভাব বজায় রাখার দাবি জানান অনেক রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। তারা অভিযোগ করেন, অনেক রোগী আইসিইউ ফি ও ওষুধপত্রের টাকা হাতে নিয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু দুদিন পরই আইসিইউ ফিসহ চিকিৎসা খরচ লাখের বেশি হয়ে যায়। ফি বেড়ে যাওয়ার কোন ব্যাখ্যা পর্যন্ত দিতে চায় না অনেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর পুরো টাকা পরিশোধ না করলে রোগী আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ  জানান, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজসহ জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের বিষয়টি সরকারী বিবেচনায় রয়েছে। জেলা সদর পর্যায়ের হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা উদ্যোগী হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা যাবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সার্বিক সহযোগিতা করবে সরকার। এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। উচ্চ ফি নেয়ার প্রতিযোগিতাও বেশি থাকবে না। রোগী ও তাদের অভিভাবকদেরও আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার। বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নীতিমালা খুব শীঘ্রই তা চুড়ান্ত হবে। অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গকারী এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রাধান্য দিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here