সড়কের উন্নয়নে খুশি মন্থর কাজে ক্ষোভ

0
517

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। একসঙ্গে সব কটি কাজ শুরু করায় স্থানীয় লোকজন পড়েছে ভোগান্তিতে।

Advertisement

পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ভেঙে নতুন ড্রেন নির্মাণ করায় এখন বৃষ্টি হলে পানি সড়কে জমে যায়। আবার সড়কের মাঝ বরাবর কেটে বিশাল আকৃতির পাইপ বসানো হয়েছে। সেখানে ঢালাই না দিয়ে ভাঙাচোরা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। আবার অনেক সড়কে রড বিছিয়ে ঢালাই না দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে এসব সড়কে এখন যাতায়াত করা যাচ্ছে না।

তবে ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘আমাদের মিরপুরে অনেক সড়কে উন্নয়নকাজ চলছে। কিছু স্থানে অবৈধ দোকানপাটের দখল থাকায় কাজ সঠিক সময়ে করা যাচ্ছে না। অনেক দিন সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কার না থাকায় অনেক কাজ করতে হচ্ছে। এর পরও মোট ২০টি সড়কের বেশির ভাগই শেষ হয়েছে।

রাইনখোলা সড়কটি এ মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের রাইনখোলা মোড় হয়ে কমার্স কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়া রাস্তাটির মাঝখানে খুঁড়ে বড় আকারের ড্রেন বসানো হয়েছে। সেখানে সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে স্লাব বসানো। তবে রাস্তার সড়কের মাঝখানে কেটে স্লাব বসিয়ে দেওয়া হলেও সংস্কার করা হয়নি। আবার একই সড়কের পাশে নতুন করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আরো কয়েকটি ছোট সড়কেও উন্নয়নকাজ চলছে। সেখানে ইটের সুরকি আর রড বিছিয়ে বিটুমিন দিয়ে ঢালাই দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পাশের ড্রেনগুলো থেকে পানি উপচে পড়ে সড়ক ভেসে যাচ্ছে। মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ১/এ বাড়ির ৩ নম্বর রোডের সি ব্লকে সাউথ এশিয়ান স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দেখা যায় সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। সেখানে ইট আর সুরকি জমিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীরা আসছে। এ স্কুলের কেয়ারটেকার নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি কয়েক বছর ধরে ভেঙে খারাপ অবস্থায় ছিল। মাস দুয়েক আগে সিটি করপোরেশনের কাজ শুরু হয়েছে। এখন কাজের জন্য আমাদের স্কুলের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। সড়কের সঙ্গে পাশের ড্রেনের কাজ করায় ভোগান্তি কিছুটা বেড়েছে। ’

একই সড়কের ৫০ গজের মধ্যে রয়েছে চেতনা মডেল একাডেমি। এ প্রতিষ্ঠানও উন্নয়নের জাঁতাকলে রয়েছে। গেটের সামনে ড্রেনের জন্য গর্ত করে রাখা হয়েছে। এ সড়কের ডেন্টাল অ্যাপেল কেয়ার অ্যান্ড অর্থোপেডিকস নামের একটি ক্লিনিকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হাসিবুর রহমান খোকন। তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে বলেন, ‘সড়ক মেরামত করে আমাদের স্থায়ীভাবে ভোগান্তি কমিয়ে দিচ্ছে সিটি করপোরেশন। তবে দুই মাস ধরে এমনভাবে কাজ করা হচ্ছে, ফুটপাত দিয়েও যাতায়াত করা যায় না। আর যাদের নিজস্ব গাড়ি রয়েছে তারা অন্যত্র পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। এসব বিষয়ে কাজ করার সময় মানুষের চলাচলের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। ’ প্রধান সড়কটির সঙ্গে মিশে যাওয়া ডুইপ আবাসিক এলাকার পাশের সড়কটিতেও সংস্কার করা হচ্ছে। সেখানে সড়ক খুঁড়ে ইট, বালু ফেলা হচ্ছে। ইট, বালু ফেলার বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও কাজে হাত দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা স্থানীয় বাসিন্দারা। ডুইপ প্রকল্পের প্রথম প্লটে বসবাসকারী আসাদুর রহমান জানান, মিরপুরের একসঙ্গে অনেক সড়কে কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় লোকজন কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। মেইন রোড থেকে গলির রাস্তাগুলো হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। রিকশা বা প্রাইভেট কার যাতায়াত করতে পারে না। আবার বেশির ভাগ বাড়ির সামনের অংশে ড্রেনের জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। বাসাবাড়িতে প্রবেশ করতে অনেকেই কাঠ দিয়ে সাঁকোর মতো করে পারাপার হচ্ছে। আসাদুর রহমানের বাড়ির সামনে থেকে একটু সামনে এগিয়ে গেলে ২-এইচ হোল্ডিংয়ে থাকা মসজিদুল নাঈম ও ফোরকানিয়া মাদরাসার সামনে ভাঙা গর্তে ময়লা পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এ পানির জন্য রাস্তার পাঁচ-ছয় জায়গা ব্যবহার করা যায় না। আবার এ মসজিদের উল্টো পাশে রাস্তার ওপর বাসাবাড়ির নির্মাণসামগ্রীর ময়লা ফেলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখানে রিকশা ও বিভিন্ন যানবাহনের অবৈধ পার্কিং রয়েছে। ফলে বিশাল আকারের এ সড়ক দুটিতে একটি করে গাড়ি যাতায়াত করতে পারে। রাইনখোলা মোড় থেকে একটু সামনে আসতেই বিইউবিটি ও কমার্স কলেজ। সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত থাকে। আর এসব শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য আসে শত শত যানবাহন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটির সামনেও ড্রেনের অংশ ভেঙে বড় আকারের গর্তের মতো সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নাকে ভেসে আসে দুর্গন্ধ। কমার্স কলেজ ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) স্টাফ কোয়ার্টারের সামনেও দেখা যায় ভাঙা আর সড়কে ময়লার ভাগাড়।

জাগৃকের কোয়ার্টারে বসবাসকারী রাদিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এ সড়কের কাজ স্থবির হয়ে আছে। কয়েকটি অংশে ইট আর সুরকি ফেলে রাখলেও পুরোদমে কাজ হচ্ছে না। রাতে সড়ক বাতি জ্বলে না। ভাঙা এ রাস্তায় রাতে হেঁটে যাতায়াত করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমরা চাই এ সড়কের কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়। ’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here