৭১’র রাজাকার তালতলী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি

0
782

বিশেষ প্রতিবেদক,বরগুনাঃ ১৯৭১ সালের চিহ্নিত রাজাকার তথা জল্লাদ তালতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি।  অমুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
গত ১৪ মে সাঈদীর রিভিউ শুনানীকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের অনেকেই ৭১’র পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থক ছিলেন। তার বক্তব্যেও যথার্থতা মিলেছে তালতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি- সদস্যদের বেলায়। তালতলীতে যাকে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে সে হল ৭১ সালের একজন চিহ্নিত রাজাকার তথা জল্লাদ। তার নাম বজলুর রশিদ দুলাল।  নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ট্রেজারীতে রক্ষিত রাজাকারের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। ৭১ সালের পর সে কি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। বরগুনার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাসির উদ্দিন গেজেট নং ৩০, মোশারেফ হোসেন গেজেট নং ৭৬, মোতালেব খন্দকার ইপিআর, গেজেট নং ৮৬, হালিম গেজেট নং ২২৬, আলী হোসেন গেজেট নং ৩১, মোঃ লিয়াকত হোসেন গেজেট নং ১২১, ফারুকুল ইসলাম,পিতা-সুলতান ভেন্ডার, জাহাঙ্গীর গেজেট নং ৫৮, ছালাউদ্দিন গেজেট নং ৫৩। তার নাম বজলুর রশিদ দুলাল এর বিরুদ্ধে মন্ত্রী মহোদয়, চেয়ারম্যান জামুকা, মহা-পরিচালক এনএসআই ঢাকা, মহা-পরিচালক সিআইডি, মহা-পরিচালক দুর্ণীতি দমন কমিশন ঢাকা, মহা-পরিচালক ডিজিএফআই সেনানিবাস ঢাকা প্রভৃতি দপ্তরে অনেক অভিযোগ প্রেরন করা হলেও তার কোন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এক অভিযোগে দেখা যায় ৭১ সালের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত তালতলী,বরগুনা,পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী প্রভৃতি এলাকায় বজলুর রশীদ দুলাল ডাকাতি, লুটতরাজ, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি অপকর্মকরে বেড়ায় এ সময় সে বামনা থানার হোগলপাতি গ্রামের হাসেম প্রেসিডেন্টের বাড়িতে ডাকাতি কালে তার ২ পুত্র হাতে নাতে ধরা পড়লেও অনেক কষ্টে প্রাণে বেচে যায়। পরে জুলাই মাসে দুলাল রাজাকারের যোগদান করে। রাজাকার হিসেবে অস্ত্রসশ্র হাতে পেয়ে সে বরগুনা জেলখানার ভেতর থেকে সুলতান ভেন্ডারের ৩ পুত্রকে বাহিরে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে ফেলে দেয়। ২ পুত্র মারা গেলেও ১ পুত্র ফারুকুল ইসলাম প্রাণে বেঁচে যায়। স্বাধীনতার পর  এ সূত্র ধরে বঙ্গবন্ধু ফারুকুল ইসলামের মাকে ২ হাজার টাকার ১টি চেকসহ শোকবার্তা প্রদান করেন। দুলাল রাজাকার থাকা কালীন জেলখানার ভেতর নারী ধর্ষণের মত জঘন্য কাজে লিপ্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে আঃ লীগের আমলে স্বাধীনতা বিরোধী, শান্তি কমিটি ও রাজাকারদের তালিকা ভূক্তির বিষয় নিয়ে সারা দেশ মুখর হয়ে উঠলে বরগুনার কতিপয় রাজাকার প্রাণে বাচার উপয় হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার  তালিকা ভূক্ত হয়ে যায়। এদের অনেকেরই নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয়।  এই বজলুর রশিদ দুলালরা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভূক্ত হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা প্রচন্ড ক্ষোভ ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। এতদ সত্যেও কালো টাকার বদৌলতে তৎকালীন কুখ্যাত কালা রশিদ আজ বরগুনা  জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার রাজাকার জল্লাদ বজলুর রশিদ দুলাল যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি, তালতলীর শান্তি কমিটির সভাপতি কালু হাওলাদারের পুত্র মোসলেম তালতলী উপজেলা কমান্ডার, অপর পুত্র খলিলুর রহমান গেজেট ভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা, কমান্ডা মোসলেমের বেয়াই মোশারেফ হোসেন, ও ছোট ভগ্নিপতি আঃ মান্নান  (জেলা কমান্ডারের ভায়রা)। রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধাদের এই চক্রটি সারা জেলায় অত্যান্ত প্রভাবশালী এবং কোটি কোটি টাকার মালিক। সাম্প্রতিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই এর ক্ষমতাটি প্রাপ্ত হয়ে এই চক্রটি বিশেষ করে কালা রশিদ, বজলুর রশিদ দুলাল ও মোসলেম আলী  এই ত্রি শক্তি তালতলীর গেজেট ভূক্ত ৫৬ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৬ জনের নামে কোন অভিযোগ (?) না থাকায় পরিকল্পিত অভিযোগে অভিযুক্ত ৫০জন নতুন আবেদিত ৪৮ জনকে নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। যাচাই-বাছাই তালিকার মন্তব্যের ঘরে (১) প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা(০২) মুক্তিযোদ্ধা নহেন(০৩) দ্বিধাবিভক্তি এই ৩টি ক্যাটাগরির নির্ধারন করে যারা ত্রি শক্তির চাহিদা পূরণ করেছে তারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।  যারা চাহিদা পূরণ করেননি তারা মুক্তিযোদ্ধা নহেন এবং যারা আংশিক চাহিদা পূরণ করেছে তাদের মন্তব্যে দ্বিধা বিভক্তি লিখে ডিসি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।  পরবর্তী সময় দ্বিধা বিভক্তি দের নিয়ে তদবির করে অমুক্তিযোদ্ধাদের(রাজাকারের পুত্র সন্তান) মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে আনার একটি বাণিজ্য কৌশল ফেঁদে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ ত্রি শক্তি।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here