অপরাধএক্সক্লুসিভঢাকাদুর্নীতিবাংলাদেশশিক্ষা

ভুয়া ডিগ্রিতে বাজিমাত গণবিশ্ববিদ্যালয় সহকারী অধ্যাপক শাহ আলমের মোটা অংকের বেতন ভাতা সহ হাতিয়েছেন কোটি টাকা

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: ঢাকা জেলা সাভার উপজেলা আশুলিয়ার নলামে অবস্থিত দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া এমফিল (M.phil)( Mster of philosophy) অর্থাৎ দর্শণশাস্ত্রের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া ডিগ্রিকে ভিত্তি করে পদোন্নতি ও বছরের পর বছর বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহ আলম মোটা অংকের বেতনসহ অন্যান্য ভাতা গ্রহণ করে ইতোমধ্যে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ তার উপস্থাপিত এমফিল ডিগ্রির কোন সত্যতা না থাকা সত্যেও তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে এম ফিল ডিগ্রি ব্যাবহার করে আসছেন । উল্লেখ

গণবিশ্ববিদ্যালয় প্রসপেক্টাস ২০২৩ ২০২৪ এবং ২০২৪ ২০২৫ এ শিক্ষক বায়োডাটায় ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান হিসেবে এমফিল ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন তিনি।
এবং টিচার্স বায়োগ্রাফিতে এমফিল উল্লেখ করেছেন এছাড়াও ডিপার্টমেন্ট শিক্ষক নাম, বেতন ও অন্যান্য তথ্যেও এমফিল উল্লেখ করেছেন তিনি। যা কি না পুরোপুরি বেআইনি ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ । এবং কি প্রতারণা, জালিয়াতি ও দূর্নীতির অপরাধ যোগ্য।

এমন অপরাধের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
প্রতারণা (Fraud) – দণ্ডবিধি, ১৮৬০বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৪১৫ ও ৪২০ ধারা অনুযায়ী ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চাকরি পাওয়া, বেতন-ভাতা নেওয়া বা বিশেষ সুবিধা নেওয়া প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

জালিয়াতি (Forgery) – দণ্ডবিধি, (১৮৬০) ৪৬৩, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১,৪০৬ ধারার অধীনে ভুয়া বা জাল ডিগ্রি তৈরি করা, ব্যবহার করা বা অন্যকে বিভ্রান্ত করা জালিয়াতি অপরাধ।
যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।সরকারি কাজে (চাকরি, পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা) ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে ।দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪
সরকারি চাকরিতে প্রবেশ বা পদোন্নতির জন্য ভুয়া সনদ ব্যবহার করলে অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ অর্জন হিসেবে গণ্য হতে পারে। যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা।সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮
চাকরিতে ভুয়া ডিগ্রি প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করা হবে এবং সরকারি চাকরির জন্য আজীবন অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।

কিন্তু এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এখনো ভুয়া ডিগ্রি ব্যাবহার করে সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন শাহ আলম। এখনো পযন্ত ভুয়া এম ফিল ডিগ্রি ব্যাবহার করে যেসব পদ বাগিয়েছেন তিনি, তা হলো:১.ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান,
২সহকারী প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক (.প্রমোশন),
৩ সহকারী প্রক্টর,
৪. ক্রীড়া কমিটির সভাপতি ,
৫. এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির সদস্য সহ আরও একাধিক কমিটির সদস্য পদ,

তথ্য সুত্রে আরও জানা যায় বিগত কয়েক বছর পূর্বে রেজিষ্ট্রার দেলোয়ার সাহেব থাকাকালীন প্রক্টর শব্দ ব্যবহার করার কারণে সাসপেন্ড হয়েছিলেন শাহ আলম।
তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারকে সমর্থন করে ছাত্র ছাত্রীদের হুমকির মুখে রেখেছিলেন বলেও জানিয়েছেন অনেকেই।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সৈরাশাসক আওয়ামী লীগের সময়কালীন ঢাকা ১৯ আসনের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম ও তার ভাইকে হাত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতিয়ে নেওয়ার মত অভিযোগও রয়েছে।

বিশ্ব বিদ্যালয়টির সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম,র বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করার জন্য ভর্তি হয়েছিলাম কিন্তু সময়ের অভাবে কমপ্লিট করতে পারিনি। ডিগ্রি কমপ্লিট না করেও কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসপেক্টার্স ও শিক্ষক বায়োডাটায় এমফিল ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন জানতে চাইলে বলেন আমি কোথাও পরিচয় দেইনা তাছাড়া কোথায় উল্লেখ করা হবে আর কোথায় করা হবে না এটা একান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়।

এবিষয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা: শওকত মাহমুদ এর কাছে অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আগে কি করেছে, কি হয়েছে তা জানিনা বর্তমান তিনি কোথাও এই পরিচয়
ব্যবহার করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে তার ডিগ্রি চলমান সেটি মুছে ফেলা হয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম এর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ ও শিক্ষক সমাজের অনেকেই বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন শিক্ষকের ভুয়া ডিগ্রির আশ্রয়ে উচ্চপদে বহাল থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button