চট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগদেশবাংলাদেশবিভাগ

‎চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি দুইটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক:‎‎চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দুটি পৃথক পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অপারেশনাল সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।‎‎‎আজ সোমবার রাজধানীর শাপলা হলে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক করতে প্রশিক্ষণ কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। সেই অংশ হিসেবেই জঙ্গল সলিমপুরে এই দুটি পৃথক একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি একাডেমি বিশেষভাবে এলিট ফোর্সের জন্য নির্ধারিত থাকবে, যেখানে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত প্রশিক্ষণ, বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অন্যটি সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মৌলিক ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে তারা আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হতে পারেন।‎‎‎তিনি আরও বলেন, পুলিশের পেশাদারি মান উন্নয়নে শুধু প্রশিক্ষণই নয়, বরং সার্বিক কাঠামোগত উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।‎‎‎স্বাস্থ্যসেবা খাতেও পুলিশ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।‎‎‎এছাড়া তিনি জানান, জমি প্রাপ্তিসাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে, যেখানে শারীরিক ফিটনেস, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।‎‎‎অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।‎‎‎জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুসারে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অপরাধ দমনে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।”‎‎‎তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবাকে সহজ ও দ্রুত করতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, অনলাইন জিডি এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবা আরও গতিশীল করা হচ্ছে। জনগণ যেন হয়রানি ছাড়াই দ্রুত সেবা পায়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।‎‎‎এছাড়া পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উন্নয়নে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।‎‎‎এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও উত্তেজনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আবারও প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।‎‎‎স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কিছু ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি ব্যবহার করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু কথিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।‎‎‎তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ভুয়া আইডি, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এসব চক্র শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।‎‎‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট বর্তমানে এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।‎‎‎স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, বর্তমানে প্রশাসনিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। তবে পুরোপুরি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।‎সব মিলিয়ে, জঙ্গল সলিমপুরে নতুন দুটি পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সক্রিয় অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button