সন্দ্বীপে জামিনে বেরিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, চরম নিরাপত্তাহীনতায় বৃদ্ধ জাফর উল্ল্যাহ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশে মামলা বিচারাধীন থাকলেও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে প্রতিনিয়ত বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী বাদীর নাম হাজী মোহাম্মদ জাফর উল্ল্যাহ (৭৪)। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে সারিকাইত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মিজান, মোঃ করিম ও মোঃ রাহাতের সঙ্গে জাফর উল্ল্যাহর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামিরা জাফর উল্ল্যাহর বসতঘরের সামনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি মিজান লাঠি দিয়ে আঘাত করে বৃদ্ধ জাফর উল্ল্যাহর মাথা ফাটিয়ে দেন। এসময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগমও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে গাছুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্দ্বীপ থানায় একটি মামলা (জিআর নং-৭৭) দায়ের করা হয়। পুলিশি তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার পর আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে।
সবশেষ গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১২টার দিকে একই এলাকার মোঃ এমলাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি লাঠি হাতে জাফর উল্ল্যাহর বাড়িতে চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং মামলা না তুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনায় সন্দ্বীপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত হুমকি-ধমকি বন্ধ হয়নি।
অশ্রুসিক্ত চোখে বৃদ্ধ হাজী মোহাম্মদ জাফর উল্ল্যাহ বলেন, “আমি বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ, আইনের ওপর শ্রদ্ধা রেখে মামলা করেছি। কিন্তু আসামিরা জামিনে থেকে যেভাবে প্রতিনিয়ত ভয় দেখাচ্ছে, তাতে আমরা এখন ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছি। সাক্ষী ও প্রতিবেশীরাও আসামিদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিচারাধীন মামলার বাদী যদি এভাবে নিয়মিত হুমকির মুখে থাকেন, তবে তা আইনের শাসনের জন্য বড় অন্তরায়। বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের উচিত ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোরতা প্রদর্শন করা।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



