১২ বছরের শিশুর জবানবন্দি, তবুও নেই বিচার! পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল হাতিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী কিশোরী মোসাম্মৎ আফরিনা আক্তার টুনি গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লিখিত জবানবন্দির মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করতেন। সেই সূত্রে কিশোরীরও সেখানে যাতায়াত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, খোরশেদ আলম সেখানে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কিশোরীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিজের বাসভবনে ডেকে নিতেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রথমদিকে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজের কথা বলে তাকে ডাকা হলেও পরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে তাকে এবং তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দেওয়া হতো এবং একটি টাচ মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরবর্তীতে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে কিশোরী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, লিখিত জবানবন্দি দেওয়ার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও তারা হতাশ হচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



