দেশ

আশুলিয়ায় আওয়ামী সস্ত্রাসীদের হামলায় স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত

আশুলিয়া (সাভার) প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায় ডিশ সংযোগের বিল সংক্রান্ত তুচ্ছ বিরোধের জেরে এক দম্পতির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে আসামিরা এখন উল্টো বাদী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ঘাতকদের ভয়ে নিজ বাসায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

মামলার বিবরণ ও বাদী মো. খাজা মিয়ার ভাষ্যমতে, গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার উত্তর গাজীরচট আনারকলী মোড় এলাকায় তাঁর ভাড়া বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ডিশ বিলের পাওনা নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। এসময় হামলাকারীরা খাজা মিয়ার স্ত্রী মোছা. জবাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। খাজা মিয়া নিজে তাঁদের বাধা দিতে গেলে তাঁকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এছাড়া ঘর ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি এবং নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

এই ঘটনায় গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-১৪০) দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২২, ৩০৭, ৩৫৪, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় দায়েরকৃত এই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭ জনকে। অভিযুক্তরা হলেন— মো. রিপন (পিতা মো. রফি), মো. সেলিম (পিতা মো. আলি হোসেন), মো. জুয়েল (পিতা আব্দুর রাজ্জাক), মো. জাহিদ (পিতা মো. সামু মিয়া), মোছা. ময়না (স্বামী মো. সেলিম), মোছা. সখিনা (পিতা আমিন উদ্দিন) এবং মো. মিরাজ ফকিরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।

ভুক্তভোগী খাজা মিয়ার অভিযোগ, আসামিরা আদালত থেকে জামিন লাভের পর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাঁরা দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং খাজা মিয়াকে হুমকি দিয়ে বলছে— মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে। খাজা মিয়া বলেন, “আমরা এখন ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রাখতেন। সেই ভয়ের কারণে এলাকাবাসীও অনেক সময় মুখ খুলতে সাহস পান না। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না এবং সব সময় এক অদৃশ্য আক্রমণের ভয়ে দিন পার করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিরা জামিনে থাকলেও বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিপীড়িত এই পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হুমকিদাতাদের বিচারের আওতায় আনতে মানবাধিকার সংস্থা ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button