
অনলাইন ডেস্ক: দেশের ঔষধ বাজারে একই জেনেরিক বা একই কার্যকরী উপাদানের ওষুধের দামের ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে জীবনদায়ী ডায়াবেটিস রোগের ওষুধের ক্ষেত্রে এই পাহাড়সম বৈষম্য সাধারণ ও নিম্নবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি বাজারে প্রচলিত দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের একই কার্যকরী ক্ষমতার (৫ মিলিগ্রাম) ট্যাবলেটের দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটির দাম অপরটির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ‘একমি ল্যাবরেটরিজ’-এর লিনোগ্লিপটিন গ্রুপের ৫ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের (Lino 5mg) বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি পিস ২২ টাকা। অথচ একই জেনেরিক ও ক্ষমতার ‘ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর ট্যাবলেটের (Linax 5mg) মূল্য প্রতি পিস মাত্র ৮ টাকা।
হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি পিস ট্যাবলেটে দামের পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে ১৪ টাকা। অর্থাৎ, একজন ডায়াবেটিস রোগীকে যদি প্রতিদিন একটি করে এই ট্যাবলেট সেবন করতে হয়, তবে মাসের ব্যবধানে তাঁর খরচের পার্থক্য দাঁড়াবে ৪২০ টাকা। আর বছরের হিসেবে এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ৫ হাজার টাকারও বেশি।
ঔষধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা অনেক সময় কাঁচামাল বা প্রস্তুতপ্রণালীর গুণগত মানের দোহাই দিয়ে দামের এই ব্যবধানকে বৈধতা দিতে চান। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— গুণের পার্থক্য থাকলেও তা কি তিনগুণ দামের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করে? বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, সেখানে ওষুধের এমন লাগামহীন দাম জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এই রোগের রোগী রয়েছেন। তাঁদের জন্য ওষুধ কেনা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। সামর্থ্যবানদের জন্য ওষুধের এই বাড়তি দাম গায়ে না লাগলেও, দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের জন্য প্রতিদিন ১৪ টাকা সাশ্রয় হওয়া মানে পরিবারের একবেলার আহারের সংস্থান হওয়া।
এমতাবস্থায়, সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি এক বিশেষ মানবিক আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসকরা যদি রোগীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রেসক্রিপশনে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অথচ কার্যকর ব্রান্ডগুলোর নাম উল্লেখ করেন, তবে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচিত ওষুধের এই অযৌক্তিক মূল্য বৈষম্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ যেন কেবল ধনীদের হাতের নাগালে না থাকে, বরং প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে— তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।



