দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকার বিরোধে সংঘর্ষ ৩ দিনে, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক

অনলাইন ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে শুরু হওয়া সংঘর্ষ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। তিন দিন ধরে বিরতি দিয়ে চলতে থাকা এ সংঘর্ষে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘অচল’ হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দুপুর নাগাদ হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধর্মতীর্থ গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে এক লাখ টাকা পাবেন বলে দাবি করেন। খাদিম মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রবিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষ হয়।

এতে মো. খাদিম মিয়া নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০ জন। ওই ঘটনার জেরে খাদিমের জানাজার নামাজের পর সোমবার বিকেল থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামবাসী। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এ সময় সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার চোখে ঢিল পড়ে আহত হন। দুইদিনের রাতের সংঘর্ষের সময় টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজন আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হয়।

সংঘর্ষকারীরা আগের দুই দিনের মতোই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসে। এ সময় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। থানা ও রিজার্ভ পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।

এরপর দুপুরের দিকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংঘর্ষ থামানোর জন্য মাইকে ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তারা আশ্বস্ত করেন। পরে দুপুরের দিকে সংঘর্ষ থামে। তবে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকেল নাগাদ সংঘর্ষস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সংঘর্ষস্থল উপজেলা কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় অচল হয়ে যায় উপজেলার একটি অংশ। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সরাইল-নাসিরনগর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লেনদেন একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে যেতে পারেননি রোগীরা।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মাইক নিয়ে সংঘর্ষ থামানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। দুপুরের দিকে সংঘর্ষ থামে। এখন আর সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিক্তি পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংঘর্ষস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button