দেশপ্রশাসন

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব: নিয়োগ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

মামুন খান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আহসান হাবীবকে দায়িত্ব প্রদানের পর থেকে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাধারণ মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির সাথে এই নিয়োগ কতটা সংগতিপূর্ণ, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, আহসান হাবীব বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। সে সময় তিনি সরকারের একাধিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণসহ সরকারি অর্থায়নে বেশ কয়েকবার বিদেশ সফরে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে এনবিআরের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে তাঁর নিযুক্তি জনমনে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ড, বিতর্কহীনতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁদের ভাষ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় প্রভাব ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাত থেকে মুক্ত করা এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত অতীত রয়েছে—এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন।

নেটিজেনদের বড় একটি অংশ দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। বিভ্রান্তি ও সন্দেহ দূর করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল জনআস্থা ধরে রাখা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করছেন।

অবশ্য প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ভিন্ন মত রয়েছে। তাঁরা বলছেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্রেফ সমালোচনা থাকলেই তাঁকে অপরাধী বা অযোগ্য বলা যায় না। নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, আহসান হাবীবের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ও অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কিংবা সরকারের কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এই নীরবতার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা আরও ডালপালা মেলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরাতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জনগণের কাছে এই নিয়োগের যৌক্তিকতা তুলে ধরা বাঞ্ছনীয়। এতে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় তর্কের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button