দেশ

ফতুল্লায় তোশকে মোড়ানো অবস্থায় ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নজরুল ইসলাম বাদল: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অপহরণের পর এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তাঁর মরদেহ ল্যাপ ও তোশকে মুড়িয়ে জনশূন্য সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডসংলগ্ন একটি গলি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মো. মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকার জাজিরা টাওয়ারে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। স্থানীয় মাসদাইর বাজারে তাঁর একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন মোতালেব হোসেন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সড়কের পাশে ল্যাপ ও তোশকে মোড়ানো একটি বড় পুঁটলি দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুঁটলিটি খুলে মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাতের কোনো এক সময় শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া শরীরে গরম পানির ছ্যাঁকার মতো নির্যাতনের একাধিক আলামতও পাওয়া গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ব্যবসার অর্থ লুটের উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button