অনুসন্ধানঅপরাধঅভিযানদুর্নীতি

ফরিদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একই পদে দুই কর্মচারী, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একই পদে দুই কর্মচারীকে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক নিয়ম ও সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি স্বজনপ্রীতির অভিযোগও সামনে এসেছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি পদে একজন কর্মচারী কর্মরত থাকা অবস্থায় একই পদে আরও একজনকে পদায়ন করা হয়েছে। এতে দায়িত্ব বণ্টন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, একজন নিয়মিতভাবে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যজনকে কার্যত কাজের সুযোগ না দিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলাম নিজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাজী জামালকে সদরপুর উপজেলা অফিস থেকে বদলি করে ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আসেন।

একই সময়ে সদর অফিসে দায়িত্ব পালনকারী মো. ফরিদ আহমেদকে বদলির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সালথা উপজেলা অফিসে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় মো. ফরিদ আহমেদ বদলি আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আদালত তার পক্ষে আদেশ দিয়ে তাকে নির্ধারিত পদে বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

তবে ওই আদেশের পরও বিষয়টি নিয়ে জটিলতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে জেলা রেজিস্ট্রারের পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।অন্যদিকে, অপর কর্মচারীকে নিয়মিত কাজ থেকে বিরত রেখে কার্যত বসিয়ে রাখা হয়েছে।

একই পদে দুই কর্মচারীর পদায়ন, বদলি প্রক্রিয়া এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে একই পদে দুইজনের পদায়নের কারণ, বদলি প্রক্রিয়া এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. শফিকুল ইসলামের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button