Uncategorizedঅনুসন্ধান

মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রোধে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

চিহ্নিত দুর্বলতা কাটিয়ে স্বকীয়তা রক্ষায় মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও সংস্কার জরুরি – জাতীয় উলামা পরিষদ

ঢাকা, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: খেলাফত মজলিস আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মনন গঠনে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশদের হাতে স্বাধীনতা হারানোর পূর্বে এদেশের শিক্ষা, বিচার ও আইন বিভাগ সবই ছিল আলেম সমাজের হাতে। অথচ আজ মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও সুদূরপ্রসারী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাদরাসা কোনো উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস তৈরির জায়গা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়া সম্পূর্ণ জনগণের সহায়তায় প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে মাদরাসাগুলো। কোনো ব্যক্তি বিশেষের নৈতিক বিচ্যুতি বা প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ও লাখ লাখ আলেম-শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে দায়ী করার চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আজ বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় উলামা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিস মহাসচিব ডক্টর আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চলমান ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এর অংশ হিসেবে আরবি ভাষার প্রায়োগিক চর্চা, বাংলা ও ইংরেজির মানোন্নয়ন এবং আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। পাশাপাশি কোনো মাদরাসায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত তদন্তে পর্যবেক্ষণ সেল ও বিশেষ হটলাইন চালু এবং অপপ্রচার রোধে কওমি বোর্ডের অধীনে কার্যকর ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট’ ও ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠন করা সময়ের অনিবার্য দাবি।

জাতীয় উলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা রাখেন শায়খুল হাদীস শেখ আজিম উদ্দিন, ডক্টর মাওলানা ঈসা সাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এমপি, মাওলানা এহতেশামুল হক নোমানী, ডঃ মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, মাওলানা আবু আম্মার, মাওলানা আরিফ হক্কানী-ঢাকার হুজুর, অধ্যক্ষ শেখ কামাল হোসেন, শিক্ষাবিদ ডক্টর মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইলিয়াস, উপাধ্যক্ষ মাওলানা সাব্বির আহমেদ, মাওলানা জাকির হোসেন কাসিমী, শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, মুফতি আব্দুল হক আমিনী, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুহাম্মদ রায়হান আলী, কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তফা কামাল, মুহতামিম মাওলানা নুরুল হক, মুহতামিম মাওলানা নুরুল আমিন, শিক্ষাবিদ ডঃ মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া প্রমুখ।

বক্তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি সব ক্ষেত্রে মাদরাসা ছাত্রদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে আলেমদের নিয়োগ এবং দেশের সর্বস্তরের শিক্ষায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বার্তা প্রেরক
মুফতি আব্দুল হক আমিনী
সদস্য- আহ্বায়ক কমিটি
জাতীয় উলামা পরিষদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button