জীবনযাপন

কীভাবে গাজর খেলে মিলবে সর্বোচ্চ পুষ্টি, কাঁচা নাকি রান্না

জীবনযাপন ডেস্ক: গাজর চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বকের সুস্থতায় অত্যন্ত উপকারী—এ কথা সর্বজনবিদিত। তবে কেবল গাজর খেলেই হবে না, এটি কীভাবে খাওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এর পুষ্টি উপাদান কতটুকু শরীরে শোষিত হবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কাঁচা গাজরের তুলনায় সামান্য স্বাস্থ্যকর তেলে হালকা রান্না করে খেলে এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে বহু গুণ বেশি কার্যকরভাবে শোষিত হয়।

ভারতের ভারতের আগ্রার যশার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ডায়েটিশিয়ান রিঙ্কল শর্মা জানান, কাঁচা গাজরের কোষীয় দেয়াল অত্যন্ত শক্ত হওয়ায় ভেতরের পুষ্টি উপাদান শরীর সহজে ভেঙে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে কাঁচা অবস্থায় গাজর থেকে বিটা-ক্যারোটিন শোষণের হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকে। তবে ভাপে বা হালকা তাপে রান্না করলে সেই শক্ত দেয়াল ভেঙে নরম হয়ে যায় এবং বিটা-ক্যারোটিন শরীরের জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, গাজরের সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ‘হালকা তাপ’ এবং ‘স্বাস্থ্যকর ফ্যাট’। বিটা-ক্যারোটিন মূলত চর্বিতে দ্রবণীয় একটি উপাদান। ফলে গাজর হালকা তাপে রান্নার পর সামান্য অলিভ অয়েল বা ক্যানোলা অয়েল যোগ করলে এর পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। মাত্র পাঁচ মিনিট অল্প তেলে হালকা ভেজে নিয়ে সঙ্গে গোলমরিচ ছিটিয়ে নিলে একদিকে যেমন স্বাদ ও মচমচে ভাব বজায় থাকে, অন্যদিকে মেলে পুরো পুষ্টি।

তবে যারা কাঁচা গাজরের সালাদ পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সালাদের সঙ্গে অলিভ অয়েল ড্রেসিং, অ্যাভোকাডো বা বিভিন্ন পুষ্টিকর বীজ যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া অতিরিক্ত সেদ্ধ বা রান্না না করে ভাপে বা বেক করে অলিভ অয়েলের সঙ্গে খেলে গাজরের সুস্বাস্থ্যকর গুণাগুণ শতভাগ বজায় থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button