দেশ

দৌলতখানে স্কুল কমিটির সভাপতি হতে না পেরে শিক্ষককে মারধর, থানায় লিখিত অভিযোগ

আশিকুর রহমান শান্ত, ভোলা জেলা প্রতিনিধি: ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নে অবস্থিত সুকদেব মদনমোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি হতে না পেরে সভাপতি ক্যান্ডিডেট দৌলতখান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান লিটন তার চাচা রফিকের নেতৃত্বে নিজের অনুসারীদের দিয়ে স্কুলের শিক্ষককে মারধর ও স্কুল লাইব্রেরীতে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে দৌলতখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় মোঃ রফিকুল ইসলাম (৬৫), মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩২),৩। মোঃ বিল্লাল (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সুকদেব মদনমোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের মধ্যে বে-আইনী ডুকে দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া স্কুল কক্ষের মধ্যে অনধিকার প্রবেশ করিয়া যুবদল আহ্বায়ক লিটন কেন সভাপতি হইতে পারে নায় মর্মে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হোসেন হারুন (৫৬) কে গালমন্দ সহ মারমুখি আচারণ করে। যাহা স্কুলের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পরবর্তীতে স্কুলে কর্মরত অন্যান্য শিক্ষকগন বিবাদীদেরকে থামাইলে বিবাদীরা প্রধান শিক্ষককে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করিয়া ঘটনাস্থল হইতে চলিয়া যায়।

সেদিন দুপুর ১ টার দিকে স্কুলের কারিগরি শাখার ড্রেসিং মেকিং শিক্ষক মোঃ মাসুদুর রহমান নাস্তা করার জন্য সুকদেব স্কুল মোড়ে একটি দোকানে যায়। সেখানে পৌছাইলে উপরোক্ত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুনরায় বে-আইনীভাবে হাতে ধারালো দা, লোহার রড, ও বাশের লাঠি নিয়া ঐ শিক্ষকের পথরোধ করিয়া গালমন্দ করিতে থাকে। তখন শিক্ষক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে গালমন্দ করিতে নিষেধ করায় তারা সকলে ঐ শিক্ষককে এলোপাথারী লোহার রড দিয়া পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। শিক্ষককের ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসিলে সকলের সম্মুখে অভিযুক্তরা এই শিক্ষক সহ স্কুলের সকল শিক্ষককে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করিয়া ঘটনাস্থল হইতে চলিয়া যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ রফিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার সাথে উচ্চ বাক্য হয়েছে রাগারাগি হয়েছে কিন্তু কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে কমিটির সভাপতি হওয়াকে কেন্দ্র করে স্কুল লাইব্রেরীর ভিতরে ও প্রধান শিক্ষকের সাথে বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

এ বিষয়ের দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফকরুল ইসলাম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি আমরা। অভিযোগ সূত্রে তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button