আদম-হাওয়ার পুনর্মিলন ও বিদায় হজের পুণ্যভূমি
ইসলামিক ইতিহাস: পবিত্র মক্কা আল-মুকাররামাহর মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। এই ঐতিহাসিক ও ধূসর সমতল মাঠের ঠিক মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে গ্রানাইট পাথরের তৈরি ছোট ও মহিমান্বিত এক পাহাড়, যা বিশ্বজুড়ে ‘জাবালে রহমত’ (Jabal ar-Rahmah) বা ‘দয়ার পাহাড়’ নামে সমধিক পরিচিত।
প্রতিবছর জিলহজ মাসের ৯ তারিখে (আরাফাতের দিন) লাখে লাখে হাজি এখানে সমবেত হন এবং আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মোড় ঘোরানো এই পাহাড়টির রয়েছে সুদীর্ঘ ও অলৌকিক এক পটভূমি।
ইসলামি ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এবং মাতা হযরত হাওয়া (আ.) জান্নাত থেকে দুনিয়ায় অবতীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘদিন একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা ও কান্নাকাটির পর দয়া করুনময় আল্লাহ তাঁদের তওবা কবুল করেন। ইতিহাস মতে, দুনিয়ার বুকে ঠিক এই আরাফাতের প্রাঙ্গণ ও জাবালে রহমতের পাদদেশেই তাঁদের ঐতিহাসিক পুনর্মিলন ঘটেছিল। আল্লাহর এই অপার কৃপা ও ক্ষমার স্মারক হিসেবেই পরবর্তীতে এই পাহাড়টির নামকরণ করা হয় ‘জাবালে রহমত’ বা দয়ার পাহাড়।
(প্রতিবেদনটির ধারাবাহিকতায় জাবালে রহমতের সঙ্গে জড়িত বিদায় হজ ও অন্যান্য ঐতিহাসিক গুরুত্বের পরবর্তী অংশগুলো জানার অপেক্ষায়…)



