এআই সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করছে, সৃজনশীলতা রক্ষায় সচেতন হতে হবে: কামরুল ইসলাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখক ও সমাজচিন্তক মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, “এআই সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করছে। সবাই এ প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। এই প্রযুক্তি আমাদের সৃষ্টিশীলতা ও সৃজনশীলতা নষ্ট করছে।”
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে উপকূল সাংস্কৃতিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা, স্থায়ী অ্যাওয়ার্ড লোগো উন্মোচন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা লেখক ও সমাজচিন্তক মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং আঁখি মজুমদারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন পলাশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকূল সাংস্কৃতিক ফোরামের স্থায়ী অ্যাওয়ার্ড লোগো উন্মোচন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের সমাজতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. আবুল কালাম আজাদ ও আরিফ হোসেন, রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আবু তাহের চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. দিলদার হোসেন, ফেরদৌস আহমেদ কৌশিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম বলেন, সংস্কৃতি ও মানবতা একে অপরের পরিপূরক। সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাত্রার প্রণালি, চিন্তা-চেতনা, শিল্প, সাহিত্য ও মূল্যবোধের প্রকাশ। অন্যদিকে, মানবতা হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে এ দুটির মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উপকূল সাংস্কৃতিক ফোরামের অগ্রগতি কামনা করেন এবং সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সংস্কৃতির সঠিক বিকাশ ও সংরক্ষণে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য নিয়মিত সংস্কৃতিবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন, প্রকৃত গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান এবং দেশীয় শিল্প-সাহিত্যের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যমে দেশীয় শিল্প-সাহিত্যের প্রচার বাড়াতে হবে। অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে তরুণ সমাজকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম, নান্দনিক চট্টলা, চাটগাঁইয়া নওজোয়ান, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট, ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম জেলা এবং ডিজাইনার আলমগীর হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে সংগীত পরিবেশন করেন ইন্তেখাব আলম মান্না, সুবর্ণা রহমান, ফোজিয়া রহমান, শিমুল কুমার দাশ, মাহবুবুর রহমান সাগর, সাইফুদ্দিন মাহমুদসহ অন্যান্য শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আয়োজকরা উপস্থিত অতিথি, শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।



