
মুহাম্মদ জুবাইর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরব হয়ে উঠছে।দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ,উঠান বৈঠক,পথসভা ও মহিলা সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন আসলাম চৌধুরীর সহধর্মিণী জামিলা নাজনীন মাওলা। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন,কারাবাস ও পারিবারিক ত্যাগের দীর্ঘ ইতিহাসকে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি এখন ধানের শীষের নির্বাচনী লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।

ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে পহেলা ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ৪ আসনের অন্তর্গত উত্তর কাট্টলী জয়তারা কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর সমর্থনে এক বিশাল মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।কাট্টলী বড় কালী বাড়ী জোনাকী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লা থেকে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটার অংশগ্রহণ করেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জুড়ে নির্বাচনী উত্তেজনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উক্ত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন আসলাম চৌধুরীর সহধর্মিণী জামিলা নাজনীন মাওলা।যুবদল নেতা সাহেদ আকবরের সঞ্চালনায় এবং রিংকু দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর আলম মঞ্জু,বিএনপি নেতা রফিক উদ্দীন চৌধুরী, শামসুল আলম, সেক্রেটারি সেলিম উদ্দীন, ফরিদুল আলম চৌধুরী, মো. আলাউদ্দীন, শহিদুল ইসলাম সমু, উজ্জ্বল দে, আশরাফ আলী পম্পি, দে মো. শাহ আলম, বাবলী দাসসহ মহিলা দল নেত্রী জুলি সেনোয়ারা, জেরিন শামীমা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামিলা নাজনীন মাওলা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি কোনো রাজনীতিবিদ পরিবারের সুবিধাভোগী নন বরং আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক পথচলা।তিনি বলেন,বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তার স্বামী লায়ন আসলাম চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে টানা ৮ বছর ৩ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন।সেই দীর্ঘ সময়ে তিনি ছিলেন স্বামীহারা এবং তার সন্তানরা ছিল পিতাহারা।পরিবারে নেমে আসে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা।তবুও তিনি বিএনপি ছাড়েননি,ধানের শীষের আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাননি।
তিনি আরও বলেন,আজ তিনি কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয় বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।তিনি বলেন, সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে তিনি শতভাগ সাড়া পাচ্ছেন এবং জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।তার দৃঢ় বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ প্রতীকে লায়ন আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হবেন এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন,এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নির্বাচন নয় বরং এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষই সেই অধিকার ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, লায়ন আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে চট্টগ্রাম–৪ আসনের অবহেলিত মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
বিএনপি নেতা রফিক উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এই আসনের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা,জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতিতে ভুগছে। তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করা হবে। শামসুল আলম বলেন, নারী ভোটারদের এই ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ।
সেক্রেটারি সেলিম উদ্দীন বলেন, এই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুসংগঠিত। তিনি বলেন, সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। অন্যান্য বক্তারাও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ চলাকালে জামিলা নাজনীন মাওলা জয়তারা কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন। তিনি নারী ভোটারদের পারিবারিক সমস্যা, এলাকার জলাবদ্ধতা, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, লায়ন আসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের দুঃখ–দুর্দশা লাঘবে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন এবং জনগণের পাশে থেকেই কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে লায়ন আসলাম চৌধুরীর দীর্ঘ কারাবাস বিএনপি রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই কঠিন সময়ে তার পরিবার রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে চরম চাপের মুখে থাকলেও দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। সেই সংগ্রাম ও ত্যাগের ধারাবাহিকতায় আজ তার সহধর্মিণী জামিলা নাজনীন মাওলা মাঠে নেমে ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জয়তারা স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



