অন্যান্যদেশবাংলাদেশরাজনীতি

বিএনপির যারা জেল খেটেছে, আন্দোলন সংগ্রাম করেছে- তারাই বঞ্চিত

মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল:বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্যাগ, সংগ্রাম এবং নির্যাতনের কাহিনি নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) -এর রাজনীতিতে এই ত্যাগের ইতিহাস দীর্ঘ ও বেদনাবিধুর।

বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর যে দমন-পীড়ন নেমে এসেছে, তা বহুবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু আজ এক কঠিন প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—যারা এই দুঃসময়ে দলকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, তারা কি আজ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে?

ত্যাগের রাজনীতি বনাম সুবিধাবাদের উত্থান বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যে নেতাকর্মীরা মাঠে-ময়দানে সক্রিয় ছিলেন, তাদের একটি বড় অংশই মামলা, হামলা, গ্রেফতার ও কারাবাসের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন, বহুজন বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টেও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।

কিন্তু আজ যখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিছুটা বদলাচ্ছে, তখন দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। যারা সেই কঠিন সময়ে আত্মগোপনে ছিলেন, বিদেশে অবস্থান করেছেন বা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন—তাদের অনেকেই এখন নেতৃত্বের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজপথে থেকেছেন, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছেন—তারা ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।

এই বাস্তবতা শুধু রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেই হতাশা তৈরি করছে না, বরং এটি দলের আদর্শিক ভিত্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন: বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন—ত্যাগীদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এমন ব্যক্তিদের, যারা অতীতে সক্রিয় ছিলেন না বা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন।

একাধিক জাতীয় দৈনিক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দলীয় পুনর্গঠনের সময় তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রের পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কোনো দল যদি তার ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই দলের সাংগঠনিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়ে।

নেতৃত্বের প্রশ্নে বিতর্ক : বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু নেতার নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে—যেমন মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মইন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। এরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দুঃসময়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের নেতাদের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বা তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—দলের অভ্যন্তরে কি কোনো নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, যেখানে ত্যাগ নয়, বরং অন্য কোনো মানদণ্ড প্রাধান্য পাচ্ছে?

ত্যাগীদের বঞ্চনার প্রভাব : রাজনীতিতে ত্যাগ ও সংগ্রাম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি দলের শক্তির মূলভিত্তি। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা, সংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা—সবকিছুই দলের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

যদি এই ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হয়, তবে এর কয়েকটি গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে—

১. মনোবল ভেঙে পড়া: তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজেদের অবহেলিত মনে করলে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
২. সংগঠনিক দুর্বলতা: অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিলে দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. বিশ্বাসের সংকট: কর্মীরা যদি মনে করেন ত্যাগের কোনো মূল্য নেই, তবে ভবিষ্যতে তারা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হবে না।
৪. দলীয় বিভক্তি: অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থেকে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, যে দলগুলো তাদের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে যে দলগুলো তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছে এবং ত্যাগীদের সম্মান দিয়েছে, তারা সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

বিএনপির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। দলটি যদি তার অতীতের শক্তিকে কাজে লাগাতে চায়, তবে অবশ্যই তাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button