অন্যান্যকবিতা ও সাহিত্যসাহিত্য

জীবন, এক আশ্চর্য অভিযাত্রা

বিল্লাল বিন কাশেম:

জীবন সম্ভবত এমনই,
যেমন হঠাৎ এক ভোরবেলা—
ছাদে নামলো এক জোড়া পাখি,
তাদের কোনো নাম নেই, ঠিকানাও না,
তবু তারা এসেছে, গেছে, আর ফিরে আসেনি।

আমি জানি, বহুবার ভেবেছি—
এই শহরটাও একদিন চলে যাবে,
যেমন হারিয়ে যায় শৈশবের মাঠ,
বাল্যবন্ধুর সেই সাইকেলের ঘন্টাধ্বনি,
আর এক গভীর সন্ধ্যায় চোখের নিচে জমে থাকা জল।

জীবন সম্ভবত এমনই—
যখন প্রেম ভেঙে যায়,
তবু সকাল আসে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন,
বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা,
চায়ের দোকানে দুই টাকায় বিস্কুট।
একটা পুরনো কবিতার বই খুলে দেখি—
তোমার হাতের রেখার মতো
কোনো এক লাইন, যেটা আমি ভুলতে পারিনি।

কখনো মনে হয়,
জীবন মানে শুধু গুছিয়ে ফেলা—
বিছানা, বইয়ের তাক, স্মৃতির হাড়িকাঠ।
মা’র মৃত্যুর পরে যে চুলের খোঁপা
আদুরে ছুঁয়ে দিত ঘাড়ের পাশে,
সে স্মৃতি এখন ঘুমের ভেতরে হেঁটে বেড়ায়,
জেগে উঠেও মনে থাকে না তার মুখ।

আঘাত? হ্যাঁ, ছিল।
ভীষণ রকম রক্তাক্ত করেছিলো কেউ কেউ।
তারপরও তো বেঁচে রইলাম—
অফিস, আয়কর, বন্ধুবান্ধব,
কোনো এক বিকেলের রোদ পিঠে মেখে
আবার হেঁটে এলাম ফেরার পথে।

একসময় সব মেনে নেয় মানুষ।
বিরহ, ভুল, বিশ্বাসঘাতকতা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত।
পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে মানুষই—
যে একবার ভেঙে পড়ে,
তারপর ধীরে ধীরে জোড়া লাগায় আত্মা।
পৃথিবীর সবচাইতে নিরীহ, সবচাইতে দৃঢ়
এই মানুষের জীবন!

সেই জীবন,
যেখানে প্রেম একদিন হারিয়ে যায়,
আর ফিরে আসে নূপুরের শব্দ হয়ে—
কোনো অপরিচিত নারীর পায়ে।

সেই জীবন,
যেখানে ভুলের ফাঁকে জন্ম নেয় ক্ষমা,
আর সেই ক্ষমার মধ্যেই আলো ফোটে,
একটা নতুন সকাল হয়।

তুমি যদি জিজ্ঞেস করো,
সব ভুলে যাওয়ার পরও আমি কি বেঁচে আছি?
আমি বলবো—
হ্যাঁ, কারণ জীবন সম্ভবত এমনই,
সবকিছু নিয়েই তার আশ্চর্য অভিযাত্রা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button