
নিজস্ব প্রতিবেদক :: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্নেল অলি বলেন, আমি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু যখন বুঝলাম বিএনপি আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না এবং তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন, তখনই দল ছেড়ে চলে আসি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিএনপির দেশ পরিচালনার সামর্থ্য নেই। তারা ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করবে, চট্টগ্রাম বন্দর দখল করবে এবং ব্যাংক লুটে জড়াবে।
এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সকল ভোটারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলছে, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করা হবে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই কারও ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। বরং যারা নিজের ধর্মই ঠিকমতো পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার করে নেন। ১২ তারিখে এ দেশের জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের ভাতের হোটেল বন্ধ করে দেবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, আনোয়ারা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও এখানকার শিক্ষিত যুবক যুবতীরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা নেই। যুবকদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার বিজয় হলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক বলেন, যারা মুখে সংস্কারের কথা বলে না ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, জনগণ তাদেরও ১২ তারিখ লাল কার্ড দেখাবে যেভাবে ৩৬ জুলাইয়ের পর আওয়ামী লীগকে দেখানো হয়েছে।
সমাবেশে দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে এবং আনোয়ারা উপজেলা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা ও নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীরের যৌথ সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, নেজামে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি জুনু মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম, খেলাফত মজলিস আনোয়ারা উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদীসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



