ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির ব্রিফিং

মুহাম্মদ জুবাইর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির অফিসার্স ও ফোর্সদের নিয়ে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন,ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে, ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এটি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ শালীনতা,ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।কোনো ধরনের উসকানি, প্ররোচনা কিংবা চাপের মুখে পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন,আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন ব্যতীত কোনো অবস্থাতেই বলপ্রয়োগ করা যাবে না।তবে কেউ আইন ভঙ্গের চেষ্টা করলে বা নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা চলবে না।
পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন,নির্বাচনী পরিবেশে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত,বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই আমরা আইনের পক্ষে। আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম ও আচরণে যেন বাংলাদেশ পুলিশের নিরপেক্ষতা,দক্ষতা ও জনগণবান্ধব ভাবমূর্তি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
তিনি উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।সততা,শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্রিফিং চলাকালে নির্বাচনকালীন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
মোবাইল পার্টি ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহলের মাধ্যমে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখবে।তারা ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করবে এবং যেকোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তা প্রদান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।
অপরদিকে স্ট্রাইকিং পার্টি নির্বাচনকালীন কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে গুরুতর বা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সহিংসতা, সংঘর্ষ কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।একই সঙ্গে ভোটার,নির্বাচন কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়,নির্বাচনকালীন সময়ে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ১১৯টি মোবাইল পার্টি ও ৩০টি স্ট্রাইকিং পার্টিতে ৬২৬ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ছাড়াও মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ও ফোর্সগণ উপস্থিত ছিলেন।



