কুমিল্লাদুর্নীতিপ্রশাসন

কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অডিটোরিয়াম ভাড়া,রাতের অশালীন কার্যক্রম ও হুমকির অভিযোগ, লিখিত আবেদন সংবাদকর্মীর

কুমিল্লার নজরুল ইনস্টিটিউটে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিক শাহানাজ বেগম এ্যানি। বৃহস্পতিবার তিনি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নজরুল ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলআমিন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরে রাত্রিযাপন করছেন। পাশাপাশি অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে, যার কোনো সরকারি হিসাব বা স্বচ্ছতা নেই বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাতের বেলায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অশ্লীল নৃত্য, নারীপুরুষের অবাধ বিচরণ এবং অর্থ আদায়ের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।এসব কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে এবং শিশু কিশোরসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারী শাহানাজ বেগম এ্যানি জানান, তিনি এসব অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মীর মাধ্যমে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, উল্লিখিত অভিযোগসমূহের সমর্থনে ভিডিও ফুটেজ ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা তদন্তকালে উপস্থাপন করা যাবে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। দাবিগুলো হলো, মো. আলআমিনকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা, তার যোগদানের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা, অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুমকি ধমকির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি নজরুল ইনস্টিটিউটের মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং একটি সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই লিখিত আবেদনটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button