আনোয়ারায় সংসদ সদস্যের হুশিয়ারির পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, অবৈধ মাটিকাটায় স্ক্যাভেটর জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি এলাকার সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম উপজেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে একটি স্ক্যাভেটর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, গত ০৬ মার্চ (শুক্রবার) রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রায়পুর ইউনিয়ন এর সরেঙ্গার বাইন্যারদিঘী এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন দীপক ত্রিপুরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানকালে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্যাভেটর জব্দ করা হয়। এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে জব্দ করা স্ক্যাভেটরটি প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাইন্যারদিঘীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে করে এলাকার কৃষিজমি, খাল, বিল এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। স্থানীয়রা একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থানের কথা জানালে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। এরপরই প্রশাসন মাঠে নেমে অভিযান শুরু করেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তারা নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা না করে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নিলে অবৈধ মাটিকাটা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসনের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকলে আনোয়ারা উপজেলা এ পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ মাটিকাটার দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।



