আইন-শৃঙ্খলা

তুরাগ নদীতে বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উদ্ঘাটন: হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্তসহ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন, যাকে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়ের পর হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম মো. লোকমান সরদার (৩৮)। গত ৩০ মে তিনি কুড়িলের বাসা থেকে ভাড়ায় গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। নিখোঁজের পর তাঁর স্বজনরা খোঁজ শুরু করলে দক্ষিণখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লোকমানের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা লোকমানকে অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করেছে। তাঁর কাঁধ থেকে আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছিলে ফেলা হয়েছিল এবং হাত-পা ভেঙে দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, চক্রের নারী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নিবা জারা কৌশলে লোকমানকে টঙ্গীর পশ্চিম থানাধীন পাখির বাজার এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সালমান, আদিব ইসলাম, রাকিব ও সবুজ মিয়াসহ আরও কয়েকজন লোকমানকে জিম্মি করে। মাদক সেবনের টাকার জন্য তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর লোকমানকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে বস্তাবন্দি করে তুরাগ নদীতে ফেলে দেয় ঘাতকরা। তারা লোকমানের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮) নিয়ে চম্পট দেয়।

পিবিআই-এর একটি চৌকস দল কক্সবাজার ও ঢাকার খিলক্ষেত এবং টঙ্গী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আদিব ইসলাম, এস এম সালমান, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম এবং মো. সবুজ মিয়া। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন অবস্থায় লুণ্ঠিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত এস এম সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। চক্রটির অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button