চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি,অপরাধে জড়িত হলে কাউকেই ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী

মুহাম্মদ জুবাইর
অপরাধ দমনে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে যেই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি নিজ দলের নেতা-কর্মী হলেও অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে সরকারের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।সভায় চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে সরকার সবসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব কোনো বিবেচনায় আসবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেকুর রহমান এর নেতৃত্বে সরকার সারা দেশে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে কাজ করছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন।তাই সরকার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিষয়ে তিনি বলেন,কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় বা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টি সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়েও প্রতিমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিপথে নিয়ে যায়। তাই মাদক ব্যবসা ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন,চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্যসহ সার্বিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে ঈদের কেনাকাটা করতে পারে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করছে।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরো বলেন, একটি সমৃদ্ধ,শান্তিপূর্ণ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন,চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী। এই শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।



