বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে মনিরুল: গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপেক্ষা করে পদোন্নতির পাঁয়তারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রকৌশল শাখায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে আছেন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. মনিরুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ উপেক্ষা করে তাকে এখন বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী পদে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী চক্র এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। গত ৬ নভেম্বর এনএসআই থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মনিরুল ইসলাম বিটিভির প্রকৌশল শাখার টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কেনাকাটা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিটিভির প্রশাসনিক ও কারিগরি শাখায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন।

গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা সবকিছু জেনেও মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বানানোর জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এনএসআই এবং দুদকের নেতিবাচক রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে বা পাশ কাটিয়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে বিটিভির ভেতরে-বাইরে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিশেষ কোনো লাভের আশায় এই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে বসাতে চাইছেন তিনি। ইতিপূর্বে সংবাদমাধ্যমে তার দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এই ঘটনায় বিটিভির সৎ ও পদোন্নতি-বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিভির এক কর্মকর্তা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বিটিভির প্রকৌশল বিভাগ এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শত কোটি টাকা লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে যদি প্রধান প্রকৌশলী বানানো হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বলতে আর কিছুই থাকবে না।”
বিটিভির সম্পদ রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই সন্দেহজনক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে মো. মনিরুল ইসলামের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি উঠেছে।



