Uncategorized

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, দ্রুত সুস্থতা কামনায় শুভানুধ্যায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ, অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত তিনদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের অসুস্থতার খবরে তার রাজনৈতিক সহকর্মী, দলীয় নেতাকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবারও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে যোগ দেবেন— এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তার অনুসারীরা।

রাজনীতির ‘জীবন্ত ইতিহাস’ ও আপসহীন সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ‘জীবন্ত সাক্ষী’ হিসেবে পরিচিত মির্জা আব্বাস। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাঁক, গণআন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সংকটের সময় যখন দলের ভেতরে ভাঙনের চাপ তৈরি হয়, তখন তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেন।

তার ঘনিষ্ঠজন ও রাজনৈতিক সহকর্মী মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল জানান, মির্জা আব্বাসকে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার প্রলোভন, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র পদ এবং ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেশ ছাড়ার বা কারাবরণের মতো কঠিন শর্তের মুখেও তিনি আপস না করে জেলের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা এবং অসংখ্যবার কারাবরণের ঘটনা ঘটলেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

জুলাই অভ্যুত্থানে ৭৬ বছর বয়সেও রাজপথে বয়স সত্তরের কোঠা পেরোলেও রাজনীতির মাঠে তার সক্রিয়তা এতটুকু কমেনি। সাম্প্রতিক জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের সময় ৭৬ বছর বয়সেও তিনি মতিঝিল, পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকায় সশরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। টিয়ারগ্যাস বা গুলির ভয় উপেক্ষা করে সামনের সারিতে থেকে তার এই নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

কারাগারে মানবিক উদ্যোগ শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, মির্জা আব্বাসের একটি বড় মানবিক পরিচয়ও রয়েছে, যা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। ২০০৭ সালের পর দীর্ঘ কারাজীবনে তিনি সহবন্দীদের জন্য নানা মানবিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হাঁটার উপযোগী ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ইনসুলিন সংরক্ষণের জন্য তিনটি ফ্রিজের ব্যবস্থা এবং তীব্র গরমে সাধারণ বন্দীদের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কক্ষেও ফ্যানের ব্যবস্থা করার মতো কাজগুলো তিনি নিজ উদ্যোগে করেছিলেন। এছাড়া দলের বহু কারাবন্দী নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা ও তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রত্যাশা ও প্রার্থনা সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দেশের নগর উন্নয়ন, ইমারত নির্মাণ ও অবকাঠামোতে নীতিগত ভূমিকা রাখা এই প্রবীণ নেতা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই আজ তার মানবিক দিকগুলো স্মরণ করছেন ও দোয়া করছেন। সবার প্রার্থনা— দ্রুত আরোগ্য লাভ করে তিনি যেন আবারও দেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button