চট্টগ্রাম ডিবি (উত্তর) অভিযানে মাদক চক্রে আঘাত, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক তিন কারবারি

জুবাইর, নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ লাখ টাকা এবং একটি কালো রঙের টয়োটা মাইক্রোবাসসহ ৩ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন রাজুর নেতৃত্বে গঠিত টিম-০৪ গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালী থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স অংশ নেয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ জাবের (৪১), মনিরুল ইসলাম (৫২) ও মোহাম্মদ সালাম (৩১)। তাদের মধ্যে জাবেরের স্থায়ী ঠিকানা বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় হলেও বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর থানার লিঙ্ক রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন। অপর আসামি মনিরুল ইসলামের বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানায় এবং মোহাম্মদ সালাম কক্সবাজার সদর থানার দক্ষিণ মুহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ লাখ টাকা এবং একটি কালো রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়, যা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল। তারা কৌশলে জেলার বাইরে থেকে মাদক এনে নগরীর বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করত এবং একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা বিক্রি করত। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-৫৪, তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর সারণি ১০(ক)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত আসামি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে যশোর কোতোয়ালী থানায়, ২০১৯ সালে ঝিকরগাছা থানায় এবং ২০২৪ সালে পুনরায় যশোর কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এতে করে তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং নগরীতে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।



