
অপরাধ বিচিত্রা ডেক্সঃ দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, অসংখ্য হামলা-মামলা আর কারাবরণ—এতকিছুর পরও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় চরম আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের ত্যাগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অ্যাডভোকেট শানু তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৮৭ সালে সোনাগাজী কলেজ সংসদ থেকে তার পথচলা শুরু। ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অপু উকিলকে পরাজিত করে বদরুন্নেসা কলেজ সংসদের জিএস নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারিনি। আমার বৃদ্ধ পিতাকে নির্যাতন করা হয়েছে, যা সহ্য করতে না পেরে তিনি অকালেই মারা যান। আমার মেয়ের যোগ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আমার রাজনীতির কারণে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেন, ২০০৯ সালে দেশনেত্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, ‘সামনের বার বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তোমাকে এমপি বানানো হবে।’ শানু আক্ষেপ করে বলেন, “১৮ এপ্রিল মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে মাত্র এক মিনিট সময় পাওয়ায় আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর (দলীয় প্রধানের) কাছে আমার ৩৮ বছরের এই দীর্ঘ সংগ্রামের কথাগুলো বলতে পারিনি।”
ফেনীর এই নেত্রী আরও জানান, তিনি এবার নিয়ে মোট চারবার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। যারা মনোনীত হয়েছেন তাদের অভিনন্দন জানালেও তিনি বলেন, “যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকেই আমার চেয়ে বয়সে ও দলীয় পদে অনেক ছোট। এমতাবস্থায় দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীদের অবস্থান কোথায় হবে? দল কি শেষ পর্যন্ত আমাদের হীনম্মন্যতায় ডুবিয়ে রাখবে?”
সবশেষে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমি সবসময় দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। এবারও মেনে নিচ্ছি। তবে আশা করি, দল আমাকে এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়ে সঠিক মূল্যায়ন করবে।”


