কুমিল্লাবিক্ষোভ

‎চৌদ্দগ্রামে মহাসড়ক অবরোধ করে থানার সামনে হত্যার বিচার দাবী

মোহাম্মদ বাকি অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যার বিচারের দাবীতে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। রবিবার(৩মে) উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সামনে ৩০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এসময় থানার অফিসার ইনচার্জ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে। উল্টোদিকে বিক্ষোভকারীরা ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে মিছিল শেষে বাজারের হায়দার মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করে।

‎এ সময় থানার ভেতর থেকে বের হয়ে আসেন অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফ হোসেন। তিনি হত্যাকারীদের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। এরপর নেতৃত্ব দিয়ে মিছিলসহকারে মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেন ওসি আরিফ হোসেন।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মোশাররফ হোসেন, সাইদুল হোসেন সাব্বির, সাজিন, বেলাল প্রমুখ। এসময় তারা বলেন, বশির ও রাহাত হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। দুই হত্যাকারীরা একই পরিবারের। হত্যা করেও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘোরে এই প্রশ্ন তোলেন তারা। যদি ৭২ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আরো বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
‎উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদির এর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদির এর পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদ এর দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে এসে নাদির এর পক্ষের লোকজনের উপর হামলা করে। হামলায় বশির গুরুতর আহত হয়। হামলায় বশির এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার দিবাগত রাতে বসির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বসির এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোর রাতে বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তাদের দুইটি বসতঘর পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় ৬ পুলিশ আহত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button