চট্টগ্রামপরিবেশ

কোটি টাকার ইজারা, তবুও ময়লার ভাগাড় চাতরী চৌমুহনী বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজার চলতি বছরে ১ কোটি ৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের পরও বাজারজুড়ে বিরাজ করছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নেই ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা কিংবা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন স্থানে জমে আছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে প্রতিদিন বাজারে আসা হাজারো ক্রেতা ও ব্যবসায়ী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর কোটি টাকার বেশি ইজারা আদায় হলেও বাজারের উন্নয়ন বা রক্ষণাবেক্ষণে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বরং দিন দিন বাজারের পরিবেশ আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে করে জনদুর্ভোগ বাড়লেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে যেখানে বিপুল রাজস্ব আদায় হচ্ছে, সেখানে বাজারের এই নাজুক অবস্থা কেন? ইজারার অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে? কেন নিশ্চিত করা হচ্ছে না ন্যূনতম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ?

বাজারের ক্রেতা মো. বোরহান উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাজারে আসে, অথচ এটি এলাকার সবচেয়ে নোংরা বাজারে পরিণত হয়েছে। ময়লা আবর্জনার মধ্যে বাজার করার মতো পরিবেশ নেই।

ব্যবসায়ী লোকমান সওদাগর বলেন, উপজেলা প্রশাসন আন্তরিক হলে এই বাজারটিকে আনোয়ারার একটি আদর্শ বাজারে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সাধারণ জনগণের অভিযোগ, বাজারকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যেন শুধু আর্থিক লাভের প্রতিযোগিতা চলছে। ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে পকেট ভারী করার প্রবণতা থাকলেও বাজারের উন্নয়নে নেই দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ।

এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের জোর দাবি, অবিলম্বে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করে চাতরী চৌমুহনী বাজারকে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত বাজারে রূপান্তর করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিতের পাশাপাশি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button