আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার, দেশজুড়ে বিশেষ যৌথ অভিযান
অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক পরিস্থিতি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পুনর্গঠন করে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে এবং সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে “বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি”-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি, পদোন্নতি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এগুলো কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা ও অবসর,সবই আইনানুগভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন আদালতের এখতিয়ার হলেও এসব চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় শার্টের রঙ অপরিবর্তিত রেখে প্যান্টে ‘খাকি’ রঙ পুনর্বহাল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অবস্থানরত প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জয়েন্ট ফোর্সের অপারেশনাল বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



