অনুসন্ধানঅপরাধ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টার্গেট কিলিং

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তার এবং ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সশস্ত্র সংগঠন আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) ও প্রভাবশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট যৌথভাবে এই ‘টার্গেট কিলিং’ মিশন পরিচালনা করছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে সশস্ত্র সংগঠন এআরও-এর চিফ কমান্ডার আব্দুল হালিম ওরফে কেফায়াত উল্লাহ হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন ৬ মে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক প্রভাবশালী নেতা। ৬ মে দুপুর আনুমানিক ২টা ১৮ মিনিটে ক্যাম্প-৮ই-এর বি-৪১ ব্লকে এআরএ প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই রোজ কামাল ওরফে মোহাম্মদ কামালকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরএসও সদস্য ও স্থানীয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করতে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে আরএসও-এর পেইড ঘাতক দল ও মাদক ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ক্যাম্প-৯ এর আরএসও সংশ্লিষ্ট প্রচারকর্মী আলী ওমর ওরফে হিরো আলম, যিনি ‘রো-পোয়েট্রি মিডিয়া’র মাধ্যমে অপপ্রচার চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ৮ই ক্যাম্পের হেড মাঝি আইয়ুব খান, ইয়াবা সিন্ডিকেট নেতা আবুল কাসিম ও আবুল ফয়াস, এবং ক্যাম্প-৯ এর হেড মাঝি মো. কামাল। তালিকায় আরও নাম রয়েছে—মনসুর, মো. জসিম, মো. আরমান, মো. নাসিয়ার, মো. আইয়ুব, মো. ফারুক, মো. হালিদ, রবি আলম, মো. আবু শেদিক, শফি আলম ও লুডিয়ান পাড়ার মনসুরের। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটিই মূলত ৫ ও ৬ মে-র দুই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী।

একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো এখন প্রকাশ্যেই ক্যাম্পের নেতাদের টার্গেট করছে, যা সাধারণ শরণার্থীদের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার, ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার এবং হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button