ডিএফপি’র তালিকায় জালিয়াতির মহোৎসব
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় দৈনিকের প্রচার সংখ্যা এবং সরকারি বিজ্ঞাপনের হার নির্ধারণ নিয়ে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক তালিকাটি তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। এই তালিকাকে ‘সাংবাদিকতার নামে পুকুরচুরি’ এবং ‘জালিয়াতির দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও ধিক্কারের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, ১ থেকে ২২ নম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ পত্রিকা বুক ফুলিয়ে ‘অষ্টম মজুরি বোর্ড’ বাস্তবায়নের দাবি করেছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব পত্রিকার অধিকাংশতেই সাংবাদিকদের কোনো নিয়োগপত্র নেই, নেই নিয়মিত বেতন-ভাতা বা আনুষঙ্গিক কোনো সুযোগ-সুবিধা। ডিএফপি’র মতো একটি দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থার নথিতে কীভাবে এমন বানোয়াট তথ্য স্থান পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন সংবাদকর্মীরা।
তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু ভয়ংকর অসংগতি:
১. প্রচার সংখ্যার জাদুকরী লম্ফন: বাজারে যেসব পত্রিকার ১০০ কপি খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর, ডিএফপি’র তালিকায় তাদের সার্কুলেশন বা প্রচার সংখ্যা দেখানো হয়েছে লাখের উপরে। অভিযোগ উঠেছে, সরেজমিনে হকার বা এজেন্টদের কাছে তথ্য যাচাই না করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসি রুমে বসে অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে এই কাল্পনিক সংখ্যাগুলো বসিয়েছেন।
২. বিজ্ঞাপন হারের বৈষম্যহীন তামাশা: দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী দৈনিক আর নামসর্বস্ব ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পত্রিকার সরকারি বিজ্ঞাপন হার সমান (৯০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে টেবিলের তলার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অস্বাভাবিক সমতা আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩. নিউজপ্রিন্ট ও ব্ল্যাকমেইল সিন্ডিকেট: এই ভুয়া প্রচার সংখ্যাকে পুঁজি করে একদল মালিক শত শত কোটি টাকার শুল্কমুক্ত নিউজপ্রিন্ট আমদানির সুবিধা নিচ্ছেন এবং তা পরবর্তীতে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এছাড়া এসব ‘কাগুজে’ পত্রিকার কার্ডধারী সাংবাদিকরা সারা দেশে প্রশাসনের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করছে।
অভিযোগের আঙুল সরাসরি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকে। অভিযোগ উঠেছে, অন্যায় প্রভাব আর অর্থের মোহে অন্ধ হয়ে একদল অসাধু কর্মকর্তা রাষ্ট্রের শত কোটি টাকা বলি দিচ্ছেন। এই অপতৎপরতা কেবল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই নয়, বরং সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথকেও রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বাংলাদেশে সৎ সাংবাদিকতা স্রেফ জাদুঘরে স্থান পাবে। রাষ্ট্রের অর্থের এই মহাহরিলুট বন্ধে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।



